প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে মার্কিন সেনাদের জন্য এক মাসের কারফিউ আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া, তাদের অ্যালকোহল পান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় এক নারীর হত্যা ও লুটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা প্রশিক্ষণের সময় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশটির রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগিকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী মার্কিন মেরিন সেনা ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইয়াগির মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে যান। পুলিশ জানায়, ব্যালার্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাইওয়ান ও চীনের নিকটবর্তী এই দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন সেনাদের বিপুল উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনার ফলে সেই উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মঙ্গলবার এসব পদক্ষেপের নির্দেশনা দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিটি যোগাযোগ আমাদের দলের জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা তৈরি করে অথবা সেই আস্থা নষ্ট করে। এই আস্থা নষ্ট হলে তা আমাদের জোটের শক্তি এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।’
ওয়াটসন আরও উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণের সময় সেনাদের আচরণ ও শৃঙ্খলার মানের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ সময় ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সকল কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে।
শনিবারের হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি জানান, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ইয়াগির গলায় চাপ দেওয়ার ফলে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার ভোরে হোটেলের কর্মীরা ইয়াগিকে তার কক্ষে অচেতন অবস্থায় পান। তিনি নির্ধারিত সময়ে হোটেল ছাড়েননি। সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ইয়াগির সঙ্গে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তির খোঁজে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য তল্লাশি চালান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভের সৃষ্টি করা এই অপরাধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বুধবার তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন বাহিনীর মধ্যে জাপানে সবচেয়ে বড় বিদেশি সেনাঘাঁটি রয়েছে। জাপানে প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার অধিকাংশই ওকিনাওয়ায় অবস্থান করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ওকিনাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে বারবার ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শব্দদূষণ, সামরিক বিমান দুর্ঘটনা এবং মার্কিন সেনাদের নানা কর্মকাণ্ড। ১৯৯৫ সালে ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান মেয়েকে তিন মার্কিন সেনা ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনার পর ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।
শনিবারের হত্যাকাণ্ড তাকাইচির জন্য নতুন একটি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি ফুতেনমা বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন মেরিন সেনাকে হেনোকো ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বিরোধীরা চান, মার্কিন সেনাদের ওকিনাওয়া প্রদেশ থেকেই সরিয়ে নেওয়া হোক।
ওকিনাওয়ার সবচেয়ে কাছের অংশ তাইওয়ান থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সম্ভাব্য চীনা সামরিক আগ্রাসন প্রতিরোধে টোকিও ও ওয়াশিংটন ওকিনাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন