প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং জানমাল রক্ষার জন্য আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং এর অভিঘাত কমানোর জন্য উল্লিখিত কর্মসূচি শক্তিশালী করা হবে, সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এবং জানমাল রক্ষার লক্ষ্যে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এই উদ্দেশ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৯ হাজার ৬৯ কোটি টাকার তুলনায় বৃদ্ধি পাবে।
বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্যে জমি ক্রয় করা হয়েছে এবং নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্প এবং অন্যান্য দুর্যোগের জন্য আধুনিক উদ্ধার যন্ত্রপাতি এবং ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার কেনার জন্য প্রায় ৫২১ কোটি টাকার ব্যয় হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির মাধ্যমে বেতার যোগাযোগ ১০০ ভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৭৮ হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের একটি সমৃদ্ধ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে যে কোনো স্থান থেকে টোল-ফ্রি ১০৯০ নম্বরে ফোন করে তInstant আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। দুর্যোগ পূর্বাভাসের কার্যক্রমকে জোরদার করতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। নদীভাঙন পর্যবেক্ষণে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে সতর্ক বার্তা দ্রুত পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। সচেতনতামূলক কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় এবং অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কিত প্রস্তুতিমূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ উন্নয়নের জন্য মোট ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকার সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটের ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন