প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুদ্ধের ময়দান থেকে মায়ের কাছে আকুতি, বেঁচে ফিরতে চান প্রিয়জনদের মাঝে
“মা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা। তোমাকে অনেক মিস করি। যদি মারা যাই, তাহলে আমার গায়েবানা জানাজা দিও মা। আর যদি আল্লাহ আমাকে ফিরিয়ে আনেন, তাহলে তোমার কোলে ফিরে আসব মা…”
রাশিয়া থেকে ভিডিও বার্তায় মায়ের উদ্দেশে এভাবেই আবেগঘন কথাগুলো বলছিলেন এক বাংলাদেশি যুবক। তাঁর কণ্ঠে ছিল প্রিয়জনদের হারানোর ভয়, মায়ের জন্য গভীর ভালোবাসা আর নিরাপদে দেশে ফিরে আসার আকুলতা।
অভিযোগ উঠেছে, দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়ার পর ওই যুবককে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে মায়ের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় ওই যুবক বলেন, “মা, এখানে মানুষের কোনো মায়া-দয়া নেই। ইন্টারনেটও নেই। সবার প্রতি খেয়াল রেখো মা। কারও কোনো দোষ নেই, নিজেই চলে এসেছি মা।”
নিজের সিদ্ধান্তের দায়ও যেন নিজের কাঁধেই নিতে চাইলেন তিনি। কিন্তু মায়ের কাছে তাঁর এই স্বীকারোক্তির আড়ালে ফুটে উঠেছে এক সন্তানের গভীর অনুশোচনা, অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার আকুতি।
তিনি আরও বলেন, “দোয়া করো মা, তোমাকে অনেক কথা বলার আছে। আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে সব বলব মা।”
কথাগুলো শুধু একজন ছেলের মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ নয়; যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে পড়া একজন মানুষের ভয় ও অসহায়ত্বেরও প্রতিচ্ছবি।
যে মা হয়তো সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন, সেই মায়ের কাছে ছেলের এমন বার্তা কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অন্যদিকে, পরিবার থেকে দূরে যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যে থাকা ওই যুবকের প্রতিটি মুহূর্তও যেন কাটছে অনিশ্চয়তার মধ্যে।
দালালের প্রলোভনে বিদেশযাত্রা, তারপর যুদ্ধের ঝুঁকি?
ঘটনাটি আবারও বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালচক্রের প্রলোভন ও প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিদেশে কাজের আশায় গিয়ে কেউ যেন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে না পড়েন, সে জন্য বিদেশযাত্রার আগে কাজের ধরন, ভিসা ও চুক্তির সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
তবে ওই যুবককে কীভাবে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল, কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকে কী পরিস্থিতিতে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও প্রয়োজন।
একটি ভিডিও বার্তা, একটি মায়ের অপেক্ষা, আর দেশে ফেরার আকুতি।
যুবকটির শেষ কথাগুলো যেন বারবারই ফিরে আসে—“দোয়া করো মা, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে তোমাকে অনেক কথা বলব।”
এখন তাঁর পরিবার ও স্বজনদের প্রত্যাশা, নিরাপদে দেশে ফিরে মায়ের সঙ্গে আবার দেখা হোক তাঁর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন