প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত প্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ এবার ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেল। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ৪৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অধিবেশনে এই স্বীকৃতিটি প্রদান করা হয়।
এটি ভারতের ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৫টিতে পৌঁছে দিল।
উন্মোচনের পর, ইউনেস্কোর দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক এবং প্রতিনিধি টিম কার্টিস এই স্বীকৃতিকে ভারত সরকার ও জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করলেন। তিনি জানান, ‘ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে ভারত সরকার ও জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সারনাথ বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য তীর্থস্থান এবং অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
এখানেই গৌতম বুদ্ধ প্রথম ধর্মদেশনা দেন, যেখানে তিনি করুণা, প্রজ্ঞা ও শান্তির বাণী প্রচার করেছিলেন। সেই শিক্ষা আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
সারনাথের মন্দির, স্তূপ ও বিহার শতাব্দী ধরে মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি এবং অভিন্ন মানবিক ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব হলো এই অসাধারণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।’
বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন জনবসতিপূর্ণ নগরী বারাণসীতে অবস্থিত সারনাথের প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থাপত্য নিদর্শনগুলোই বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে বোধিলাভের পর গৌতম বুদ্ধ সারনাথে এসে তাঁর প্রথম পাঁচ শিষ্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানেই প্রথম ধর্মদেশনা দেন।
বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে এই ঘটনাকে ধর্মচক্র প্রবর্তনের সূচনা হিসেবে ধরা হয়। পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে সারনাথ বৌদ্ধ শিক্ষা, গবেষণা ও তীর্থযাত্রার একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজা, দাতা ও বৌদ্ধ ভিক্ষু সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় এখানে অসংখ্য স্তূপ, মন্দির ও বিহার নির্মিত হয়েছে।
ফলে সারনাথ বিশ্বের চারটি প্রধান বৌদ্ধ তীর্থস্থানের মধ্যে একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করেছে।
বর্তমানে এই ঐতিহ্যের প্রধান নিদর্শন দুটি সংরক্ষিত প্রত্নস্থল হচ্ছে—চৌখণ্ডী স্তূপ (Chaukhandi Stupa) এবং সারনাথ প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা (Archaeological Remains of Sarnath)। এর মধ্যে বিখ্যাত ধামেখ স্তূপ (Dhamek Stupa) ও ধর্মরাজিকা স্তূপ (Dharmarajika Stupa) রয়েছে। এসব নিদর্শন নিয়ে গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক ডিয়ার পার্ক (Deer Park)।
বৌদ্ধ ঐতিহ্যে এই স্থানটি ঋষিপতন (Rishipatana/Isipatana) বা মৃগদাব (Mrigadava) নামেও পরিচিত। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি ১৯৭২ সালের বিশ্ব ঐতিহ্য কনভেনশন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। তারা এমন সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক স্থানগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়, যেগুলো অসাধারণ সার্বজনীন মূল্য (Outstanding Universal Value) রাখে এবং যা সমগ্র মানবজাতির অভিন্ন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
১৯৭২ সালে কনভেনশন গৃহীত হওয়ার পর থেকে বর্তমানে বিশ্বের ১৭০টি দেশে ১ হাজার ২৪৮টি সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ও মিশ্র বিশ্ব ঐতিহ্য ইউনেস্কোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন