প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাজেটে এত অধিক আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে, বাজেটকে আশাবাদে ভারাক্রান্ত বলেই মনে হচ্ছে। অথচ বাস্তবায়ন করা এই বাজেট কঠিন হবে। সুতরাং, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এই বাজেটকে সুলিখিত বলে উল্লেখ করেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম-মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পেশকৃত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের উপরে প্রদত্ত তৎক্ষণাৎ এক প্রতিক্রিয়াতে এসব কথা বলেছেন।
বাজেট বক্তৃতায় জুলাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে, যেখানে “সমাজ-সংস্কৃতির বুনন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন”, জনমিতিকি লভ্যাংশ, দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশ ও গণতান্ত্রিক লভ্যাংশের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। “স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ন্যায্যতা”কে মূল বিবেচনা করেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো সাধুবাদযোগ্য। তবে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির আশাবাদ, মূল্যস্ফীতি ৭.৫ এ নামিয়ে আনা এবং ৬.৫ প্রবৃদ্ধির লক্ষমাত্রা অর্জন করা, বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজেট বক্তৃতায় ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অস্থির বিশ্বরাজনীতির কথাও আলোচনা করা হয়েছে কিন্তু এর পরেও এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বলেই মনে হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, জনগণকে অপ্রাপ্তিযোগ্য আশা না দিয়ে বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেছেন বাজেট বক্তৃতায় ২০৩০-৩১ অনু্ষ্ঠানে দেশে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপি'র ২.৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং মোট বিনিয়োগকে জিডিপি'র ৪০ শতাংশে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এ সকল লক্ষ্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা, রাজস্ব-জিডিপি'র অনুপাত বাড়ানো যা বর্তমানে ৬.৮ শতাংশ এবং যা ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে ৯.৬ শতাংশে উন্নত করার আশা ব্যক্ত করা হচ্ছে, সেগুলোও চ্যালেঞ্জিং সমস্যা। কারণ রাজস্ব আদায় পদ্ধতি ও চর্চা বর্তমানে দুর্নীতি ও অদক্ষতায় নিমজ্জিত রয়েছে। এই খাতে সংস্কার আনতে অন্তর্বতী সরকারকে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছিল।
ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির যে আশাবাদকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে, সেখানেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, নীতি দুর্বলতা, সংস্কার নিয়ে সরকারের অনিহা বিনিয়োগের জন্য অদৃশ্য বাঁধা হয়ে আছে।
ব্যাংক ও আর্থিক খাতে যা প্রতিশ্রুতি ও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে, তার বাস্তবতা এখন পর্যন্ত নেই। ব্যাংকের প্রতি রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বসানো এবং ইসলামী ব্যাংকে রাজনৈতিক কারণে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ হ্রাসের পাশাপাশি ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিলের ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখনই দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।
বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করা এবং ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণ কমিয়ে আনার নীতিকে সাধুবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সম্পদ সঞ্চালনে বিশেষভাবে শিক্ষা ও মানবসম্পদ, স্বাস্থ্য, দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই খাতগুলোর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়।
ধর্মীয় উপাসনালয়ের নেতৃত্বকে সম্মানি বাবদ ১,০৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব একটি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। তবে দেশের সকল মসজিদের ইমামদের এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত করার দাবি জানানো হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেছেন, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ও কর্পোরেট কর না বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিদ্যমান করসীমার ভেতরে আদায়যোগ্য কর আদায় করতে পারলে এই বরাদ্দে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।
মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য, যেমন-ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ হতে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। একই সাথে স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড়ের অংশ হিসেবে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাবকেও একটি ভালো প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, এই সরকার সব অর্থেই একটি নতুন সরকার। তাদের প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচকভাবে দেখা যেতে পারে তবে এই বাজেট বাস্তবায়নে নজর রাখা হবে তাদের ওপর। আগামী অর্থ বছরে তাদের প্রকৃত দক্ষতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পাবে। বাজেট সম্পর্কে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন