প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ থেকে নির্গত প্রাকৃতিক গ্যাসের আগুন টানা নয় দিন ধরে জ্বলছে। আগুনের তীব্রতা এখনও কমেনি এবং গ্যাসের সংমিশ্রণ বন্ধ করাও সম্ভব হয়নি। বরং, গ্যাসের সঙ্গে অবিরাম পানি বের হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) আপাতত আগুন নিভানোর পরিবর্তে টানা ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংস্থাটির মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করলে ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত চাপের কারণে আশপাশের অন্য কোনো স্থান থেকে গ্যাস বেরিয়ে আসতে পারে, যা ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে বাপেক্সের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্যাসের নির্গমন, আগুনের রং ও তীব্রতা এবং পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে। এ লক্ষ্যে সেখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং গ্যাসের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই সময়ের মধ্যে আগুনের তীব্রতা ও গ্যাসের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না এলে ঢাকা থেকে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল এসে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু ছিটিয়ে পাইপের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিরা সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
এদিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এলজিইডির সড়কের দুই পাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে নিরাপত্তাবেষ্টনী সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘুরতে আসা পর্যটকরা সেখানে ভিড় করছেন এবং অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যে ভিডিওচিত্র ধারণ করছেন।
টানা ৯ দিন ধরে আগুন না নেভায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করলেও অন্যদিকে এই অঞ্চলে সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের প্রত্যাশায় মুখিয়ে আছেন অনেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন