প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাঙ্গামাটি পর্যটন শিল্পের অন্যতম আইকনিক স্থান ঝুলন্ত সেতু, যেখানে প্রতিদিন ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমায়। কিন্তু সেতু পার হয়ে অপর প্রান্তে দর্শনীয় স্থানে পৌঁছাতে পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এই সমস্যার প্রধান কারণ হলো নির্মাণাধীন সিঁড়ির কাজের অসমাপ্ততা। পর্যটকদের চলাচলের একমাত্র এ রাস্তার ওপর পড়ে আছে রড, যার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত পর্যটক। শুধু তাই নয়, নির্মাণ সামগ্রীকে যেখানে সেখানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
পর্যটকদের চলাচলের সুবিধার্থে পূর্বের ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার ও সম্প্রসারণে কাজ চলছে। প্রথমবারের মতো হস্তান্তরিত বিভাগ হিসেবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এই সেতু এলাকায় উন্নয়ন কাজ করছে। তবে, কিছু কাজ শেষ হলেও, গুরুত্বপূর্ণ এই সিঁড়ির কাজের ধীরগতির কারণে পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আইকনিক পর্যটন কেন্দ্রের এমন দূরাবস্থায় হতাশ পর্যটকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, সেতু থেকে ওপরের ওঠার স্থানে সিঁড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় চার মাস ধরে চলছে। সেখানে ঠিকাদার মাসে মাত্র দুই থেকে তিনটি ধার নির্মাণ করছে। এত সামান্য জায়গায় কাজ করতে এত সময় লাগছে কেন?
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সাইদ আনোযার জানাচ্ছেন, ‘এমন একটা দর্শনীয় স্থানে এসে যখন দেখে সেখানে নির্মাণ সামগ্রী পড়ে আছে, যার জন্য আমাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
রমজান আলী বলেন, ‘এই রাস্তায় চলাচল করতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। রডের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। ঢালু জায়গার বেশ কিছু স্থানে রডের মাথা বের হয়েছে, সেখানে সবাই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’
নোয়াখালীর থেকে আসা রুহুল আমিন প্রশ্ন রাখেন, ‘কাজ করার এটাই কি উপযুক্ত সময়? আমার ট্যুর এজেন্সি আছে, তাই প্রায়ই পর্যটক নিয়ে রাঙ্গামাটি আসি। মাস দুয়েক আগে এসেছিলাম। তখন কেন এই কাজ করা হলো না? সামনের বর্ষায় দুইটি গ্রুপ নিয়ে আবার আসব। একজন গাইড ও পর্যটক হিসেবে মনে করি কাজটা এখন শুরু করা পর্যটক বান্ধব সিদ্ধান্ত নয়।’
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলক বিকাশ চাকমা বলেন, ‘হস্তান্তরিত বিভাগ হিসেবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এই উন্নয়ন কাজ করছে। কাজ অত্যন্ত ধীরগতিরে চলছে। দ্রুত উন্নয়ন কাজটি শেষ করার জন্য জেলা পরিষদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।’
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, ‘আমি কাজের বিষয়টি অবগত হয়েছি। প্রকৌশল শাখা ও ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই কাজ শেষ হবে এবং পর্যটকদের বিড়ম্বনা দূর হবে।’
জেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ঝুলন্ত সেতু এলাকার রাস্তা, সিঁড়িসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে দেড় কোটি টাকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন