প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে, আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে, জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের মধ্যে বিতরণের জন্য ঐতিহাসিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। উল্লেখ্য, ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান ব্যতীত বাকি পাঁচ শীর্ষ নেতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ বা সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের পরিবারকে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের প্রতিক্রিয়া ও স্বস্তিরায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। তবে এই প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনাল আসামিদের ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দিলেন। সেই সম্পত্তি জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো সরকারি বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে বণ্টন করা হবে।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘জুলাই আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ নিরীহ মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। আজকের এই রায়ের মাধ্যমে ওই শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর প্রতি পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো বলে আমরা মনে করি। এটি একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও প্রত্যাশিত রায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন