প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে, এই কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি।
আজ সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সাথে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
চিফ হুইপ আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য শেষ সময় ১৮ আগস্ট রাত নির্ধারিত। সরকারি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি; প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা তাঁদের আসন ও বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।
নূরুল ইসলাম মণি বলেন, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোট প্রদানের দৃশ্য গণমাধ্যমকে সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুতির কার্যক্রমও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
তিনি আরও জানান, সংসদে মোট ৩৪৯ জন ভোটার রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি ভোটগ্রহণ শেষ হয় তবে গণনা শেষে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। কিন্তু কোনো ভোট বাকি থাকলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে এবং তারপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
চিফ হুইপ জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনী কার্যক্রমে তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদ সচিবালয় তাঁদের প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, 'সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধন হয়নি, তাই এটি কার্যকর থাকবে।'
নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীর বাইরে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন কী না—এ সম্পর্কে তিনি জানান, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে।
এদিকে, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন বলেই বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে।
তিনি জানান, বিরোধী দল নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চায়নি। সেহেতু প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, জুলাই সনদে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে চারটি ক্ষেত্রে ঐকমত্য রয়েছে; এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত রাখা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। যাতে দেশের মানুষ ভবিষ্যতে নির্বাচনমুখী হয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, এ ধরনের পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।
ভারতের সংবিধানের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান গ্রহণ করার পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০৬ বার সংশোধন করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতিবারই সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হয়েছে; নতুন করে সংবিধান রচনা করা বা সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠন করা হয়নি।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি দাঁড়ি, কমা ও সেমিকোলন যেভাবে আছে, সেভাবেই আমরা বাস্তবায়ন করবো। সবাই মিলে যে সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেটিই বাস্তবায়ন করা আমাদের কমিটমেন্ট।
চিফ হুইপ জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি নতুন বিল আনা হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সরকার করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন