প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তারা জানিয়েছে যে, তারা রাজ্য সরকারের সাথে আলোচনার বিষয়ে আশাবাদী, তবে প্রশ্ন ফাঁসের সিবিআই তদন্তসহ তাদের সমস্ত দাবি পূরণ না হলে তারা আরো কঠোর আন্দোলন করার ঘোষণা দিয়েছে। গত ২৫শে জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলন এখন বৃহস্পতিবার ১৩তম দিনে পদার্পণ করেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো অনশন করছেন।
দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো গত ২রা আগস্ট থেকে অনশন শুরু করেছেন এবং তার রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি মাহাতোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, তাকে অন্তত জল পান করার জন্য অনুরোধ করেন এবং মাহাতো সেই অনুরোধ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ওয়াংচুক দিল্লিতে করকরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে ২৬ দিন অনশন করেছেন।
জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চের মুখপাত্র জীবন কুমার বলেছেন, ‘আমাদের আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের দাবি আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে দুই নারীসহ আমাদের পাঁচ বন্ধু এই অনশনে যোগ দিয়েছেন।’
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিল করা। এই দাবির সঙ্গে পরঅঙ্ক্ষার কেলেঙ্কারির সিবিআই তদন্ত এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা এই বিষয়েও দাবি করছেন যে, পরীক্ষা বাতিলের পর ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত।
আরও উল্লেখযোগ্য হলো, বিজেপি এই বিষয়টি বিধানসভায় তোলার ঘোষণা করেছে এবং ক্ষমতাসীন জেএমএম-নেতৃত্বাধীন সরকারের সহযোগী দল কংগ্রেসও ছাত্রদের সমর্থন জানিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘ঝাড়খণ্ড, পাঞ্জাব, দিল্লি বা অন্য যেকোনো জায়গাই হোক না কেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আছি। আমরা ছাত্রছাত্রীদের পাশে আছি এবং তাদের সমস্যাগুলোর জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’
ছাত্র নেতা রাধে কুমার এবং রাহুল ক্রান্তি সতর্ক করেছেন যে, যদি তাদের দাবি পূরণ না হয় তবে ১০ই আগস্ট বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে রাঁচি প্রশাসন ৬ই আগস্ট থেকে ১২ই আগস্টের মধ্যে বিধানসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এদিকে, নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে সিআইডি তদন্ত জোরদার করেছে এবং এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল. খিয়াংতে-কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী যেমন পেটে ভর দিয়ে চলে, প্রতিবাদও তেমনি চলে। যখন ঝাড়খণ্ডে কথিত পরীক্ষা অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে, তখন মন্দির, মসজিদ ও গুরুদ্বারগুলোর পাশাপাশি সাধারণ লোকজনও রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ১৩ দিন ধরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন।
এদিকে, ছয়জন বিক্ষোভকারী তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন অব্যাহত রেখেছেন। গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টির কারণে শহর ভিজে গেলেও ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-তে ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত হাজার হাজার মানুষের মনোবল ভাঙতে পারেনি। ছাত্ররা জানিয়েছে যে, ঝাড়খণ্ড গঠিত হওয়ার ২৬ বছর ধরে তারা অন্যায়ের সম্মুখীন হচ্ছে এবং এবার তারা তাদের অধিকার আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন