প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বহিঃখাতের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার কিছু বিশেষ প্রস্তুতির ব্যবস্থা রেখেছে। এই তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ সংসদে চাঁদপুর-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. জালাল উদ্দিনের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি তা জানিয়ে দেন।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকারের তরফ থেকে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহ সম্প্রসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার মাধ্যমে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি, এলএনজি ও সারের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভর্তুকি সহায়তা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মহৎ উদ্দেশ্যে, অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বহিঃখাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ‘থ্রি-আর স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণ করছে। এই কৌশলের আওতায় পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, উত্তরণ পর্যায়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বহিঃখাতকে শক্তিশালী করা ও পুনর্গঠন পর্যায়ে উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের প্রধান গন্তব্য। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া এবং নর্থ মেসিডোনিয়া-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, তিনি জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাট এবং কুয়েত-এর শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে বৈধ চ্যানেলে পাঠানো অর্থের ওপর বিদ্যমান ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি, বহিঃখাতের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সতর্কতামূলক পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন