প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলার ফলে ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটিতে হুথি বিদ্রোহী এবং সউদী-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় এটি একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হামলায় নারী ও শিশুসহ অনেক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানী সানার পূর্বে বানি হুশাইশ জেলার আল-শারিয়া গ্রামে বিমান হামলা পরিচালিত হয়। হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। হামলার জন্য সউদী যুদ্ধবিমানকে দায়ী করেছে হুথি কর্তৃপক্ষ, তবে সউদী সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগের দিন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাইজ প্রদেশের একটি জনাকীর্ণ বাজারে হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা হুথি পরিচালিত একটি সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এই হামলার জন্য সংঘাতের দুই পক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করেছে। ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের সরকারি কর্তৃপক্ষ হুথিদের হামলার জন্য দায়ী করেছে, অন্যদিকে হুথি কর্মকর্তারা এ ঘটনায় সউদী আরবকে দায়ী করেছেন।
গত কয়েক দিনের প্রাণহানির ঘটনা আগস্ট মাসে শুরু হওয়া সংঘাতের ভয়াবহতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ নাগাদ সংঘাতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৩ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এদিকে, ইয়েমেনের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা সতর্ক করেছে।
জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করে বলেছে, ইয়েমেনে সংঘাতের মাত্রা এক দশক আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ লড়াই চলছিল।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং সউদী নেতৃত্বাধীন জোট তাদের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে বিমান অভিযান চালাচ্ছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে সহিংসতা, ক্ষুধা ও রোগে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এর ফলে ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন