প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন নিয়ে অসংবেদনশীল ও রহস্যময় মন্তব্য করে ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, টিভি সঞ্চালক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার পার্লে মানি নেটপাড়ার চরম ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। বিতর্কিত সেই সোশ্যাল মিডিয়া বার্তার পরে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ইনস্টাগ্রামে তিন লাখেরও বেশি অনুসারী হারিয়েছেন সাবেক ‘বিগ বস মালায়লাম-১’ প্রতিযোগী।
শুধু ইনস্টাগ্রামেই নয়, নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেওয়ায় ইউটিউব ও ফেসবুকেও তার অনুসারীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে কমছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কমেন্ট সেকশন বন্ধ করলেও ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা তার অন্যান্য পোস্টে গিয়ে ট্রোল ও সমালোচনার বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন।
গত ২৪ জুলাই শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে ‘বেদনাদায়ক’ ও ‘হৃদয়বিদারক’ আখ্যা দিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেন পার্লে মানি। সেখানে তিনি লেখেন, "আমার কেবল একটি কথাই মনে হচ্ছিল... অনুগ্রহ করে কেউ আহত হবেন না, আপনারা নিরাপদে থাকুন। যদি আপনাদের জীবন বিপন্ন মনে হয়, তবে বাড়ি ফিরে যান। নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়ার মতো কোনো কারণ বড় হতে পারে না।"
এর পাশাপাশি আন্দোলন যেন মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত না হয় সে আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, "শিক্ষার্থীরা একটি সুষম শিক্ষাব্যবস্থা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু যখন কোনো আন্দোলন এত বড় রূপ নেয়, তখন আবেগ বেড়ে যায় এবং নানাবিধ বক্তব্য সামনে আসে। আমি আশা করি মূল দৃষ্টি যেন সব সময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকেই নিবদ্ধ থাকে।" তবে এই পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘কমেন্ট সেকশন আমার বাকস্বাধীনতার প্রতিচ্ছবি’ এবং অদ্ভুতভাবে পুরো কমেন্ট বক্সটি বন্ধ বা ডিসেবল করে দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জীবন সংগ্রামের মুখোমুখি না হয়ে এমন ‘কূটনৈতিক ও উপদেশমূলক’ বার্তা দেওয়ার কারণে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েন পার্লে মানি। কমেন্ট সেকশন বন্ধ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী তার অন্য একটি পোস্টে লেখেন, "আপনি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছেন বলেই এই মানসিক চাপ বুঝবেন না, আমরা কিন্তু প্রতিটা সুযোগ ও নম্বরের জন্য যুদ্ধ করি।" অন্য এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন, "আপনি বরং পোস্টটি মুছে ফেলছেন না কেন? আপনার বাকস্বাধীনতা কেবল নিজের জন্য নাকি!" এ ছাড়া পার্লের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২.৭ মিলিয়ন (২৭ লাখ) থেকে এক লাফে কমে ২.৪ মিলিয়নে (২৪ লাখ) নেমে আসায় এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, "নকল মুখের মুখোশ খুলে যাওয়ার পর অনুসারী কমতে দেখে খুব ভালো লাগছে।"
বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন পার্লে মানি তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আরও একটি আক্রমণাত্মক বার্তা দিয়ে বিতর্ককে নতুন মাত্রা দেন, যা প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সিবি মালয়িলকে লক্ষ্য করে দেওয়া বলে ধারণা করা হয়। পার্লে লেখেন, "আমার পোস্টটিতে হয়তো সতর্কতা দেওয়া উচিত ছিল! এটি অনেক মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, যারা শান্তি ও অহিংসার বার্তা সহ্য করতে পারে না। একজন ব্যর্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা আমার চার পাতার পোস্ট নিয়ে দশ পাতার চিত্রনাট্য লিখছেন, তাতে আরও ঝাল ও আজিনোমোটো মিশিয়ে পোস্টটি যতখানি সম্ভব অস্বাস্থ্যকর করার চেষ্টা করছেন।" এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, "আর হ্যাঁ, আমার প্রিয় রঙ গেরুয়া! ভারতের জাতীয় পতাকায় এই রঙটিকেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।"
পার্লের এই কটাক্ষের জবাব দিতে মোটেই দেরি করেননি নির্মাতা সিবি মালয়িলের ছেলে জো মালয়িল। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে জো লেখেন, "শুনুন ম্যাডাম, আপনি যাকে ‘ব্যর্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা’ বলছেন, তিনি আমার বাবা। কার সঙ্গে কথা বলছেন তা আগে ভালো করে জেনে নিন। সাতটা স্লাইড পড়তে আপনার কতখানি অলসতা কাজ করে! আপনি চান সাড়ে ৫৭ লাখ অনুসারী আপনার অর্ধেক রান্না করা কূটনৈতিক বার্তা গোগ্রাসে গিলুক, অথচ সাতটি স্লাইড পড়া আপনার জন্য অনেক বেশি হয়ে গেল? যেহেতু বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, তাই খেলা এখন থেকেই শুরু। ওই ‘ব্যর্থ নির্মাতা’ কোনো মেরুদণ্ডহীন সন্তান জন্ম দেননি, কিন্তু আপনার বাবা একটি কাপুরুষ তৈরি করেছেন। বাই দ্য ওয়ে, তার নাম সিবি মালয়িল। যান, আপনার যা ইচ্ছা করার করে নিন।"
বাবার বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যের স্যোশাল মিডিয়া পোস্টে পাল্টা জবাব দিয়ে পার্লে মানির দ্বিচারিতার তীব্র সমালোচনা করেছেন জো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন