প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের দ্বারা নির্মম নির্যাতনের শিকার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বীরাঙ্গনা মোজেফা খাতুনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরবিদায় জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে কাশিপুর ইউনিয়নের মহারাজা পাঁচপীর মাদ্রাসা মাঠে তাঁর মরদেহে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় রাষ্ট্র এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
গার্ড অব অনার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানউল্লাহ আল বারী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত থেকে বীরাঙ্গনা মোজেফা খাতুনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি নিজ বাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি তিন ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন মোজেফা খাতুন। দীর্ঘ ৪৭ বছরের অপেক্ষার পর ২০১৮ সালে সরকার তাঁকে বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করে।
জীবনের শেষভাগে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বীরাঙ্গনা। প্রায় এক মাস আগে তাঁর শরীরে ক্যান্সার এবং কিডনির রোগ শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতনের শিকার হয়েও দীর্ঘ জীবন বয়ে বেড়ানো এই বীরাঙ্গনার বিদায়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন