প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিনটি উপজেলা থেকে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের রামরাইল বাজারে রামরাইল ইউনিয়নের লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একই সময়ে সুলতানপুর ইউনিয়নবাসীও এ ধরনের কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অবরোধের ফলে ব্যস্ততম মহাসড়কটির দুপাশে ঘণ্টাখানেক যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।
রামরাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েকশ বাসিন্দা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে রামরাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। তারা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব; বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল এবং আখাউড়া উপজেলার নবগঠিত বরিশল ইউনিয়নকে নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের পাঁয়তারা শুরু করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য ও ভূঞা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবীর আহমেদ ভূঞা। তিনি গত ৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কবীর আহমেদ ভূঞার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব হেলেনা পারভীনের সই করা একটি চিঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বিষয়টি নিয়ে মতামতসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদনে জমা দেওয়ার নির্দেশনা এসেছে।
জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের মতামতসহ জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সড়ক অবরোধকারীরা নতুন উপজেলা গঠনের এই উদ্যোগকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সরকারের কাছে দাবি জানান যে, তারা যেন এই বিষয়টি থেকে সরে আসেন। রামরাইল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘বাসুদেব, রামরাইল ও সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন নিয়ে একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণকেন্দ্র হলো রামরাইল ইউনিয়ন। আমি কবীর আহমেদ ভূঞাকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, আপনি পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে যে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন, তা সফল হবে না। সর্বস্তরের জনগণ আজ মাঠে নেমে গেছে। আমাদের দাবি একটাই, আমরা কখনও এই বরিশল উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হব না।’
তরুণ আইনজীবী মুকুল চৌধুরী বলেন, তিনটি উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন যে উপজেলা করার চেষ্টা চলছে, তার প্রতিবাদে এই আন্দোলন। তিনি জানান, এই কর্মসূচি লাগাতার চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা না হবে, ততক্ষণ প্রতিবাদ চলবে। পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা যে কোনো মূল্যে এই উদ্যোগ প্রতিহত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে স্থানীয় বাসিন্দা ইমন হাজারী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক অভিলাষ বাস্তবায়নের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনকে নানাভাবে চাপে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলাকে ভেঙে দিতে চাচ্ছে। এলাকায় নানা অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। রামরাইল ও সুলতানপুরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে অন্য কোনো উপজেলার অধীনে নেওয়ার প্রস্তাব তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন রামরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিম, বিএনপি নেতা সাদেকুর রহমান, বিএনপি নেতা আল আমিন, শাহগীর আলম, বাবুল খন্দকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন