প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের হাতে অপহৃত হয়ে বন্দিদশা থেকে অলৌকিকভাবে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার পাঁচ যুবক। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠার পর তারা তাদের মাতৃভূমিতে পা রেখেছেন এবং স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন।
দেশে ফিরে আসার পর তারা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মনোহরগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কুমিল্লা-৯ সংসদীয় আসনের এমপি মো. আবুল কালামের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী যুবকরা জানিয়েছেন, উন্নত জীবনের আশায় ও ভাগ্যান্বেষণে তারা দালালের মাধ্যমে ৬ জন যুবক ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী ও স্থানীয় মাফিয়া চক্রের খপ্পরে পড়েন। চক্রটি তাদের একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগীদের পরিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের কাছে যান। এমপি আবুল কালাম বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে দ্রুত যোগাযোগ শুরু করেন। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশেষে বন্দিদশা থেকে ওই পাঁচ যুবককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে বাকী ১ জন যুবক (ফয়সাল) বন্দি অবস্থায় মারা গেছে বলে তার বাবা সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন।
প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি ৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ভুক্তভোগী যুবকরা হলেন উপজেলার খিলা ইউপির দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন, মানিকুল ইসলাম, মো. সোহেল, তাজ মোহাম্মদ, ফয়সাল এবং উপজেলার লক্ষণপুর ইউপির বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দালালের কথামতো জনপ্রতি ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে তারা লিবিয়া পৌঁছান।
দেশে ফিরে ওই যুবকরা এমপি আবুল কালামের সাথে দেখা করতে যান। এসময় তারা এমপিকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরাও সংসদ সদস্যের এই মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এ বিষয়ে এমপি আবুল কালাম বলেন, "জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। আমাদের যুবকরা বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়েছিল শুনে আমি স্থির থাকতে পারিনি। সরকারি সংস্থা ও দূতাবাসের সহযোগিতায় তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পেরে নিজের কাছেও শান্তি লাগছে।" তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান অবৈধ পথে ও দালালের প্রলোভনে পড়ে বিদেশে না যাওয়ার জন্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন