প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিথ্যা রপ্তানি দেখিয়ে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং (অর্থ পাচার) এবং প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তা জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১২ জুলাই) আসামিরা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) দেলোয়ার জাহান রুমি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বিস্তারিত জানান, আসামিরা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে গত ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আদালত তখন তাদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। আজ আসামিপক্ষ স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে দুদক এর তীব্র বিরোধিতা করে।
শুনানি শেষে আদালত জামিন বাতিল করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া কর্মকর্তাগণ হলেন— জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির ও মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. জয়নাল আবেদীন, রাজস্ব কর্মকর্তা জমির হোসেন, এ এইচ এম নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার ও মো. মঞ্জুরুল হক এবং সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পালক।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, কোনো পণ্য রপ্তানি না করেই ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কাগজ-কলমে জালিয়াতি করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য পাঠানো দেখায় ‘দো এম্পেক্স লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই ভুয়া রপ্তানি দেখানোর প্রক্রিয়ায় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করেন।
প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে সরকারের প্রণোদনা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এর মধ্যে মাত্র ৭টি চালানের বিপরীতে কৃষি জাতীয় পণ্য রপ্তানির সত্যতা রয়েছে। বাকি ৩৪টি চালানের বিপরীতে বাস্তবে কোনো পণ্যই বিদেশে রপ্তানি করা হয়নি।
অথচ ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে অগ্রিম হিসেবে পুরো অর্থ ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭ দশমিক ৪৪ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৪০৪ টাকা) অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আনা হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে।
এই জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন