প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও শক্তিশালীকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ‘যদি গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে, তাহলে সমাজে সন্ত্রাস এবং ঘুষের পরিমাণ কমে যাবে এবং সমাজ অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।’
আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই বক্তব্য দেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও জানান, ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সঙ্গে আমার দীর্ঘকালীন নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যখন আশ্রয়ের অভাব ছিল, তখন ডিআরইউকে আমি আশ্রয়ের স্থান হিসেবে দেখেছি।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘গত ১৭ বছরে অনেক টেলিভিশন এবং পত্রিকা থাকলেও কথা বলার এবং মত প্রকাশের সুযোগ ছিল শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি এবং একটি রাজনৈতিক দলের। যারা এর বাইরে চেষ্টা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।’
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান না হলে পরিস্থিতি কেমন হতে পারত, তা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মিডিয়া, টকশো, টকশো হোস্ট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। তবুও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমকে সত্য প্রচার করতে হবে, কিন্তু অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর। সত্য প্রচার করতে গিয়ে যদি জীবনের ঝুঁকি আসে, তবে সেই ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং আদালতকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয়, ঠিক তেমনি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে গণমাধ্যমকেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং কেউ কেউ পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে সাংবাদিকতার এই মহান পেশাকে আরও মহিমান্বিত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘গণমাধ্যম রাষ্ট্র এবং জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা, সাফল্য এবং সম্ভাবনার কথা নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছাতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতা।’
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদ দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এছাড়া গুজব, অপতথ্য এবং যাচাই-বাছাইহীন সংবাদের মতো নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হয়েছে। তাই দ্রুত সংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক এবং যাচাইকৃত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া পেশাদার সাংবাদিকদের বড় দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন, রেল যোগাযোগ এবং জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উন্নয়ন এবং সংস্কার কাজ এগিয়ে চলছে। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন এবং বাস্তবভিত্তিক মতামত সরকার এবং নীতি-নির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।’
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ডিআরইউয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি এবং সকল সদস্যের কল্যাণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন