প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়ার সময় অপহরণের শিকার হন অটোরিকশাচালক মো. সুন্দর আলী (৪৬) নামের একজন ব্যক্তি। অপহরণের পর তাকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি চক্র। পরবর্তীতে র্যাব-১০ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্যে রয়েছেন কুদ্দুস মিয়া (৩৮), জুয়েল রানা ওরফে কুত্তা জুয়েল (৪০), রাকিব হাওলাদার (২৬) এবং অপু মীর ওরফে বায়জিদ (৩৫)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জে র্যাব-১০ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোনালী সেন এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর কুন্দলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুন্দর আলী প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ের জন্য গত ১৯ জুলাই বিকালে গোলাম বাজার থেকে রামেরকান্দা এলাকায় মেয়ে দেখতে যাচ্ছিলেন। তবে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছানোর পর গ্রেপ্তার কুদ্দুসসহ চারজন তাকে মারধর করে জোরপূর্বক রামেরকান্দা বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে সুন্দর আলীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, ‘‘প্রথমে তাঁর পরিবার নগদের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা পাঠায়। কিন্তু তাও ভুক্তভোগীকে মুক্তি না দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরো টাকা দাবি করা হয়। পরে আত্মীয় ও স্বজনের কাছ থেকে ধার করে পরিবার আরো ৩৯ হাজার টাকা অপহরণকারীদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠায়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর আত্মীয় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং একই সময়ে র্যাব-১০’র কাছে উদ্ধার অভিযানের জন্য আবেদন জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। তার ধারাবাহিকতায় সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবের ভাড়া বাড়ি থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় সুন্দর আলীকে উদ্ধার করা হয়। একইসাথে চক্রের চার সদস্যকেও গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পুলিশ সুপার সোনালী সেন জানান, ‘‘কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। জুয়েল রানার বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা, রাকিবের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা এবং অপু মীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও নারী-শিশু নির্যাতনসহ চারটি মামলা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন