প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নদীর জলকে কেটে কেটে একত্রে ছুটে চলছে দৌড়ের নাও। নৌকার দুই পাশে মাঝিদের সারি রয়েছে।
গায়েনের গানের তালে তালে তাদের শক্ত হাতে বৈঠা চলছে একসঙ্গে। প্রতিযোগিতার উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে বৈঠার গতি বৃদ্ধি পায়। মাঝিরা কোরাস গাইতে থাকে, এবং মিলিত ধ্বনি ওঠে ‘হেইও, হেইও’। নদীর দুই পাড় মুখর হয়ে ওঠে।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদী এবং এর দুই পাড়ে বসে এমন উৎসবের আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচের এই প্রতিযোগিতা শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শুরু হয়। এতে অংশগ্রহণ করে ১০টি নৌকা।
নৌকাবাইচ দেখার জন্য সকাল থেকেই সুরমা নদীর দুই পাড়ে হাজারো মানুষের ভিড় জমে।
কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। আয়োজকদের দাবি, বিকেল পর্যন্ত এই আয়োজনে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।
স্থানীয়দের মতে, কিশোরগঞ্জে নৌকাবাইচের ইতিহাস প্রায় শত বছরের পুরনো। এক সময় নিকলীতে প্রতিবছর ভাদ্র মাসের প্রথম দিন নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। তবে কালের বিবর্তনে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।
সূত্র জানায়, নিকলীতে ৯ বছর আগে শেষবার নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর ইটনায় প্রায় ৫০ বছর আগে নৌকাবাইচ হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই এবার ইটনায় এই আয়োজন করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের উৎসাহে ধনপুর ইউনিয়নবাসী এই আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ছিল সোনার হরিণ, দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল রূপার ময়ূর এবং তৃতীয় পুরস্কার এলইডি টিভি। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী নৌকার মালিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী উম্মে কুলসুম রেখা। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, "নৌকাবাইচ ভাটিবাংলার উৎসব। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনে যুক্ত করাও এর লক্ষ্য।"
আয়োজক কমিটির সদস্য এবং ধনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ভজন কান্তি দাস বলেন, "সকাল থেকেই মানুষ নৌকা নিয়ে সুরমা নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন। দুপুরে লোকসমাগম লাখ ছাড়িয়ে যায়। পুরো আয়োজন পরিণত হয় বড় উৎসবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন