প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো একটি দেশব্যাপী প্রতিনিধিত্বমূলক মানসিক স্বাস্থ্য জরিপের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, দেশটির প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন শনাক্তযোগ্য মানসিক ও আচরণগত সমস্যায় ভুগছেন। এই জরিপটি লাখ লাখ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলা একটি বড় জনস্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জকে সামনে এনেছে।
পাকিস্তান সাইকিয়াট্রিক সোসাইটি (পিপিএস)-এর প্রতিনিধিত্বকারী গবেষকদের মতে, এই ফলাফলগুলো পাকিস্তানে এ পর্যন্ত পরিচালিত সবচেয়ে বড় ও সর্বাঙ্গীণ মানসিক স্বাস্থ্য-বিষয়ক গবেষণা থেকে এসেছে।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি পাঁচ বছর ধরে পরিচালিত হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্ব দেন করাচির হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজা-উর-রহমান। এতে যুক্তরাজ্যের ব্রাইটন অ্যান্ড সাসেক্স মেডিকেল স্কুল, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন মনোরোগ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের প্রায় ১৮ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশটির মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির একটি জাতীয় প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র পাওয়া গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পাকিস্তানের ৩২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বর্তমানে মানসিক ও আচরণগত সমস্যায় ভুগছেন। আর জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক।
প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের মানদণ্ড পূরণ হয়েছে। প্রতি ১০ জনেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে বিষণ্নতা দেখা গেছে। অন্যদিকে ছয় শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে গত এক মাসে তাদের মনে আত্মহত্যার চিন্তা এসেছিল।
গবেষকেরা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সামাজিক বৈষম্যও শনাক্ত করেছেন। বয়স্ক ব্যক্তি, কম শিক্ষিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ, বেকার এবং স্বামী বা স্ত্রী মারা গেছেন কিংবা বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বা আলাদা থাকছে – এমন ব্যক্তিদের মধ্যে মানসিক সমস্যার হার বেশি পাওয়া গেছে।
মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে পারিবারিক জীবন, সামাজিক সম্পর্ক এবং কাজ করার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গবেষণার প্রধান অনুসন্ধানকারী অধ্যাপক রাজা-উর-রহমান মন্তব্য করেন, ‘পাকিস্তানে কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যনীতি ও সেবা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ এই জরিপে পাওয়া গেছে। এতে কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন, কোথায় সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন এবং চিকিৎসাসেবার অপূর্ণ চাহিদা কতটা বড় তা চিহ্নিত করা হয়েছে।’
তিনি জানান, জরিপটি পরিচালনার জন্য গবেষকেরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড ও পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস জরিপের জন্য এলাকাগুলো নির্ধারণ এবং নমুনার আকার ঠিক করতে সহায়তা করেছে।
পাকিস্তানে মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণার ক্ষেত্রে এই গবেষণাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বড় পরিসরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জনস্বাস্থ্য গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশটির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাও তুলে ধরেছে।
সূত্র: দ্য ডন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন