প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মঙ্গলবার ইসরাইলের বিরোধী শিবিরের নেতারা বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেওয়ার পর এটি তাদের প্রথম একত্রিত আলোচনা। এদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নেতৃত্বে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহের হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, ফলে বিরোধীদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আইজেনকটের দল ইয়াশার জানায়, ‘পরিবর্তন ব্লক’-এর নেতারা মঙ্গলবার সকালে হার্জলিয়ায় বৈঠক করবেন। সেখানে তারা জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন।
নির্বাচনে আইজেনকটের ব্লক ৪৮টি আসন অর্জন করেছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে, যার মধ্যে তার লিকুদ পার্টির আসন সংখ্যা ২৭। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আরব-প্রধান তালিকাগুলো ১৯টি আসন নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ফলে সরকার গঠনে তাদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সোমবার নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী জোট সরকারের নেতৃত্ব তারই দেওয়া উচিত।
লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইহুদি জনগণের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লিকুদকে বৃহত্তম দল হিসেবে এবং আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে একটি বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চাই।’
আরব-প্রধান তালিকাগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, দলগুলো ‘সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়ে আরব ইসরাইলি দলগুলোর নেতারা ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। রা’আম পার্টির নেতা ইসরাইলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও অন্য নেতারা এ সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নির্বাচনের আগে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব-প্রধান দুটি তালিকার প্রধানরা একটি অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, তারা যে সরকারকে ‘বর্ণবাদী’ বলে মনে করেন, সেটির পতন ঘটানো।
বিরোধী শিবিরে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আইজেনকটের ব্লকের দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সোমবার পর্যন্ত সব নেতাই তাকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরব দলগুলোও আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না, তা বিরোধী শিবিরের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। আইজেনকটের শিবিরে ডেমোক্র্যাটস পার্টির বামঘেঁষা নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের পক্ষে। অন্যদিকে ডানপন্থী ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এর তীব্র বিরোধিতা করছেন।
আইজেনকটের দল সরাসরি ঘোষণা না দিলেও এ ধারণা নাকচ করেছে বলে মনে হচ্ছে। নাফতালি বেনেটের মধ্য-ডানপন্থী টুগেদার পার্টির অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
ইসরাইলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন দলের সমর্থনের সংখ্যা ও রাজনৈতিক শক্তি বিবেচনায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট সাধারণত সবচেয়ে বেশি সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর শিবিরে তার কট্টর ডানপন্থী মিত্ররা এবং অতি-অর্থোডক্স শাস পার্টি তার নাম সুপারিশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য অতি-অর্থোডক্স দলের অবস্থান অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়।
সরকার গঠনের প্রক্রিয়া
ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার থেকে দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন। প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তার হাতে সাত দিন সময় রয়েছে, অর্থাৎ ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।
প্রেসিডেন্টের মনোনীত প্রার্থী জোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। প্রথম প্রার্থী ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন।
দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের ৬১ জন সদস্য প্রেসিডেন্টকে তৃতীয় কোনো প্রার্থী বেছে নেওয়ার অনুরোধ করতে পারবেন। ১৪ দিনের মধ্যে এমন অনুরোধ করা না হলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন