প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত গুরুত্ব পাচ্ছে। এবার অগ্রাধিকারে রাখা হচ্ছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি অনুসন্ধানের মতো বিষয়গুলো। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতে, উৎপাদন খাত ও অর্থনীতির গতি ধরে রাখতেই বাজেটে এ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি, কয়েক দিনের জ্বালানি তেল সংকটের পর দুই দফা দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে এলপি গ্যাসের দামেও বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। শিগগিরই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে জ্বালানি পণ্যের দাম।
তবে বাজেটের জটিল হিসাব-নিকাশ নয়; সাধারণ মানুষের চাওয়া হচ্ছে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। তাদের প্রত্যাশা, লোডশেডিং কমবে এবং জ্বালানি পণ্যের দাম এমন পর্যায়ে থাকবে যা নিম্ন আয়ের মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকবে।
এদিকে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব শিল্পখাতেও পড়ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেটে কী ধরনের নীতিকৌশল নেয়া হচ্ছে, সেদিকে।
নীতিনির্ধারকরা বলছেন, গ্রাহকের প্রত্যাশা, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদন খাতের স্বার্থ বিবেচনায়, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে। তাই নতুন বাজেটে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গুরুত্ব দেয়া হবে। বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়টিও বাজেট বক্তৃতায় স্থান পাবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ছাড়া দেশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। এ কারণে সরকার এ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে বরাদ্দ রাখছে।
সরকার আগামী পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ভ্যাট ও কর কমানোসহ বিভিন্ন নীতিসহায়তা দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, রুফটপ সোলার প্যানেলসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। বাজেটে এ খাতে অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেছেন, তরল জ্বালানির ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার দিকনির্দেশনা বাজেটে থাকতে হবে। পাশাপাশি সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর সেবা যদি মুনাফামুক্তভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ এবং সরকারের ভর্তুকির বোঝা অনেকটাই কমে আসবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি খাতে অযৌক্তিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তাবান্ধব নীতি গ্রহণ জরুরি। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো, নতুন বাজেটে এমন ব্যবস্থা নেয়া হবে যাতে সহনীয় দামে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। এখন সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন