প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও স্মার্ট করতে ওয়ার্কিং পেপার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
সোমবার (৮ জুন) সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা, এর দুর্বলতা, স্মার্ট গ্রিডের প্রয়োজনীয়তা, এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালুর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, "পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের আগে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।" এ লক্ষ্যে একটি ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি ওঠান।
তিনি বলেন, "উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে উপযোগী করতে হবে।" এ জন্য বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেডকে (পিজিসিবি) প্রয়োজনীয় স্টাডি করে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিদেশি অভিজ্ঞ কনসালট্যান্টদের মাধ্যমে এটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন পরিকল্পনা নেওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, "দেশের বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসনির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে কয়লা ও সৌরবিদ্যুতের দিকে অগ্রসর হয়েছি, এখন লক্ষ্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ।" তবে এর জন্য ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনকে সমন্বিত ও স্মার্টভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি, এ কথা তিনি সতর্কতার সঙ্গে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিস্তারিত কনসেপ্ট ও ওয়ার্কিং পেপার প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা জমা দেবেন বলে সভায় জানানো হয়।
মন্ত্রী বলেন, "পারমাণবিক বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তবে এটি জটিল ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর। তাই জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।"
এ সময় তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ খাতে অনাবশ্যক প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব প্রকল্পের পেছনে দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
সভা শেষে, তিনি বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম, পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। সভায় বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখও উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন