প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার এবং হামলা বন্ধ করার চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরব ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই তথ্য ইসরাইলি গণমাধ্যমের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছেন। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় ইরানের মাধ্যমে হুতিদের ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
একটি কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছে যে, সৌদি মন্ত্রী ‘হারকিউলিস’ সামরিক বিমানে করে তেহরানে গিয়েছিলেন এবং সেই বিমানে করেই তিনি অর্থ নিয়ে এসেছিলেন। তবে, সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি যে, কোনো অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে কি না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, এতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মহাসচিব মোহসেন রেজায়ি এবং আইআরজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে ক্রমবর্ধমান হামলার প্রেক্ষাপটে, ইরান সৌদি আরব এবং হুতিদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারের ওপর ইরানি হামলাও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি ব্যাহত করেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছে, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফরটি এই জোটের চলমান প্রচেষ্টারই একটি অংশ। এর লক্ষ্য হলো বর্তমান সংকটে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন করা, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথকে উৎসাহিত করা এবং কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে গৃহীত মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন জোগানো।’
যদিও আর্থিক লেনদেনের খবরটি নিশ্চিত করা হয়নি, সৌদি কর্মকর্তা ইসরাইলি গণমাধ্যমকে বলেছেন, হুতিদের সঙ্গে বিরোধের একটি অংশ তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতাগুলোর বাস্তবায়ন সম্পর্কিত।
সেই সমঝোতা অনুযায়ী, মীমাংসা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হুতিদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল সৌদি আরবের। এই তহবিলের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি খাতের বেতন পরিশোধ করা এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর বিনিময়ে গোষ্ঠীটি যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ করবে বলে আশা করা হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, সৌদি আরব পূর্বের বোঝাপড়া থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ তুলে হুতিরা তাদের হামলাকে ‘ন্যায্যতা’ দিয়েছে।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন