প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিজের আর্থিক টানাপোড়েনের কথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানাতে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম কেঁদে ফেলেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণের সময় রেদোয়ানুল ইসলাম এ ঘটনার অবতারণা করেন।
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ক্ষেত্রে আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন রেদোয়ানুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার এ মামলায় উপস্থিত এক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করতে যাচ্ছিল ট্রাইব্যুনাল। এ সময় কিছু বলতে ট্রাইব্যুনালের কাছে রেদোয়ানুল অনুমতি চান।
ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দিলে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘন ঘন ডেট (মামলার তারিখ) দিলে আমার সমস্যা হয়। ঘন ঘন ডেট দিলে আইনজীবীর টাকা দিতে পারি না। আর্থিকভাবে আমার সঞ্চয় বা অন্য কিছু নেই। ফলে ঘন ঘন ডেট দিলে বেতনের টাকা আইনজীবীকে দেব নাকি সংসার চালাব?’ এ কথা বলার সময় তিনি কেঁদে ফেলেন।
সঙ্গে সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে রেদোয়ানুলের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনজীবী শাহিনুর রিজনেবল জানান ফি নেওয়া হচ্ছে এবং বাড়তি সময় নেওয়া হচ্ছে না বলে জানান।
তখন ট্রাইব্যুনাল রেদোয়ানুলকে বলেন, ‘ঘন ঘন ডেট দিয়ে মামলা শেষ করে দিলে আপনাকে আইনজীবীর পেছনে খরচ করতে হবে না।’ এসময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমটি ট্রাইব্যুনালকে জানায় যে রেদোয়ানুলের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের সুযোগ আছে।
এরপর ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘ওনি (রেদোয়ানুল) কেঁদে ফেলেছেন। বলছেন, আমি পারছি না। আমি সংসার চালাব নাকি উকিলকে ফিস দেব। এটা আমার হার্ট টাচ করেছে।’
এ সময় প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার মন্তব্য করেন, তাহলে এই মামলা যেদিন থাকবে, ওই দিন অন্য কোনো মামলা না রাখলে ভালো হবে। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। ওই দিন অন্য কোনো মামলা রাখা হবে না বলেও জানান ট্রাইব্যুনাল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় রেদোয়ানুল ইসলাম ছাড়া অন্য তিন আসামি হলেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মো. রাফাত-বিন-আলম মুন, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। তাদের মধ্যে রেদোয়ানুল ও রাফাত-বিন-আলম গ্রেপ্তার আছেন। অন্য দুই আসামি পলাতক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন