প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে আর কোনো বিশ্বজিৎ যেন নৃশংস হামলার শিকার না হন।
তিনি শুক্রবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩ উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেন, 'শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে হলেও তাঁর জীবন, দর্শন ও শিক্ষা আজও সমাজে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, মানুষের প্রকৃত পরিচয় বংশপরিচয়ে নয়; বরং কর্মের মধ্য দিয়েই তার মর্যাদা ও অবস্থান নির্ধারিত হয়।' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের উচিত শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা।'
তিনি যোগ করেন, 'সব ধর্মের মূল শিক্ষা শান্তি, শৃঙ্খলা, মানবতা ও সম্প্রীতি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, কোনো নাগরিক ধর্মীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন।'
রাশেদ খাঁন বলেন, 'অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা চাই না, ভবিষ্যতে আর কোনো বিশ্বজিৎ এ ধরনের নৃশংস হামলার শিকার হোক।'
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন সভাপতির বক্তব্যে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আচার-অনুষ্ঠান ভিন্ন হলেও শান্তি, মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য অভিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন থেকে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়।
এর আগে, দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজা, জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয়ে ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে জন্মাষ্টমী উৎসবের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন