প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হ্রদগুলো পর্যবেক্ষণ করে রাজ্যটির ৪০টি হিমবাহ হ্রদ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি হ্রদকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হিমালয়ের উচ্চ অঞ্চলে তীব্র ঠান্ডার কারণে বরফ জমে বিশাল হিমবাহ ও হ্রদ তৈরি হয়। তবে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ দ্রুত গলতে থাকায় এসব হ্রদে পানির পরিমাণ ও চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাহাড়ধস, ভূমিকম্প বা অতিরিক্ত পানির চাপের কারণে কোনো হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সিকিমের অতীত অভিজ্ঞতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি হিমবাহ হ্রদ ফেটে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ৬০ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং একটি বড় বাঁধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সম্প্রতি নেপাল সীমান্তে একই ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, যা হিমালয় অঞ্চলে নতুন করে সতর্কতা তৈরি করেছে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সিকিম সরকার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ‘শাকো ছা’ হ্রদ থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি লোনাক ও গুরুডংমার হ্রদের পানির স্তর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
হ্রদগুলোর বিপুল পরিমাণ পানি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। সম্ভাব্য পদ্ধতিগুলোর মধ্যে বড় পাইপের মাধ্যমে পানি পাম্প করে বের করে দেওয়া, সাইফন পদ্ধতি এবং সুরঙ্গ তৈরি করে পানির গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় নতুন ধরনের সেন্সর ও সাইরেন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হ্রদের পরিস্থিতিতে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দিলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে নিচু এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সূত্র : দ্য হিন্দু।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন