প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণকে ঘিরে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে এ টাকা নেওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন ওই পরিষদের প্রশাসক, কয়েকজন সদস্য ও ভুক্তভোগী জেলেরা।
পরিষদ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোরশেদ আলম প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন। পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) হিসেবে আছেন সাইফুল ইসলাম। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে ৭১৭ জন জেলের মাঝে চাল বিতরণ শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। চাল বিতরণের শুরুতে প্রত্যেক জেলেকে মাথাপিছু ১০০ টাকা করে জমা দিয়ে চাল নিতে একটা নিয়ম বেঁধে দেয় সাইফুল। তার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলে ১০০ টাকা জমা দিয়ে চাল সংগ্রহ করেন। যদিও ওই টাকা নেওয়ার কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি পরিষদের সভায়। সম্পুর্ন বেআইনীভাবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এ টাকা নিচ্ছেন বলে জানান পরিষদ সংশ্লিষ্টরা। জেলেদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ জানান স্থানীয় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
সুত্র জানায়, ইউনিয়টিতে মোট ৭১৭ জন জেলে রয়েছে। প্রত্যেক জেলে ২৫ কেজি করে চাল পাবে। তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে মোট ৭১ হাজার ৭০০ টাকা সংগ্রহ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
জেলে হুমায়ুন কবির ও নিজাম মাঝি বলেন, ১০০ টাকা না দিলে কোন চাল দেওয়া হবেনা মর্মে নির্দেশ দেয় সচিব। পরে প্রত্যেক জেলে টাকা দিয়ে চাল নিতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিষদের ৩ জন ইউপি সদস্য (মেম্বার) জানান, পরিষদের সভায় ১০০ টাকা করে নেওয়ার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তারা এ বিষয়ে অবগত নন। তবে সচিব তার মতো করে প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে ৭১ হাজার ৭০০ টাকা আদায় করেছে। এটা সম্পুর্ন তার খামখেয়ালি ও একতরফা সিদ্ধান্ত।
টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য পরিষদের প্রশাসক ও মেম্বারদের নির্দেশনা ছিল। তাই হোল্ডিং ট্যাক্স বাবত ১০০ টাকা করে নিয়েছি।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, পরিষদের সভায় জেলেদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেওয়ার কোনো আলোচনা হয়নি। সচিব কেন এমন বেআইনি কাজ করছেন-তা তিনি জানেন না। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, সরকারি চাল বিতরণে কোনো টাকা নেওয়ার বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন