প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সীমান্ত হত্যা বা বর্ডার কিলিং নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া বক্তব্যের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেন, সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর নির্বিচার হত্যার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য খুবই আপত্তিকর এবং অপমানজনক। এরকম মন্তব্য সরকারিভাবে দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির কাছে শোনা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য এক লজ্জার বিষয়।
শনিবার (৬ জুন) রাতে গণমাধ্যমের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, গত তিন দিন অতিবাহিত হলেও সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্য প্রত্যাহার কিংবা ব্যাখ্যা করেননি। তাছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকেও এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কোন নিন্দা বা আপত্তি জানানো হয়নি। এই কারণে, আমরা ধরে নিতে বাধ্য হচ্ছি যে, সীমান্ত হত্যার বিষয়ক সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রকাশ করে।
তিনি আরো বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সীমান্ত হত্যা’ শব্দটির সংজ্ঞাকে সংকুচিত করে সংকটটিকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, এই শব্দটি শুধু শূন্যরেখা (জিরো লাইন) এ সংঘটিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তার দাবি অনুযায়ী, সীমান্ত সংক্রান্ত অপরাধ বা অবৈধ অনুপ্রবেশে জড়িত ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এখতিয়ারের আওতাভুক্ত। এই যুক্তির ভিত্তিতে তিনি বলেন, এসব মৃত্যুকে সীমান্ত হত্যা হিসেবে উল্লেখ করা সঙ্গত নয়।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, কিন্তু জাতিসংঘের মানবাধিকার নীতিমালা এবং জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইন বেসামরিক নিরস্ত্র মানুষের ওপর বেআইনি গুলি, নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। জেনেভা কনভেনশন এবং এর অতিরিক্ত প্রোটোকলসমূহ যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের সময়েও বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিষিদ্ধ করেছে। তদুপরি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রণীত জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনী শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক মাত্রার বলপ্রয়োগ করতে পারে। অতিরিক্ত বা নির্বিচার প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এর আগে ২০২০ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও সীমান্ত হত্যার বিষয় নিয়ে অনুরূপ মন্তব্য করে সমালোচনার সৃষ্টি করেছিলেন। ভারতের প্রতি মোমেনের নতজানু অবস্থান সর্বজনবিদিত। সেই আনুগত্যের ফলস্বরূপ ওই সরকার ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, পরবর্তী বিপ্লবী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন আপসকামী বক্তব্য গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন