প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর টুর্নামেন্টটি ৬৪ দলে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এবং মূল্যায়ন করা হবে। ইনফান্তিনোর মতে, বিশ্বের প্রতিটি দেশের অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত।
সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় আমাদের শুধু ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার কথা ভাবলে চলবে না। এটি সম্পূর্ণ বিশ্বের জন্য। প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত।’
তিনি আরো মন্তব্য করেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা (২০২৬) বিশ্বকাপের পর খতিয়ে দেখব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দলের মান অনেক বেড়েছে এবং তারা উন্নতি করছে। ছোট দেশগুলোকে যদি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে তাদের উন্নতির অনুপ্রেরণাও কমে যাবে।’
ইনফান্তিনো মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপ, যা প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত হয়েছে, দারুণ সফল হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, এবার আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে ৯টি নকআউট পর্বে উঠেছে। অথচ আগের বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মাত্র ৫টি দল।
ফিফা ২০১৭ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা (কনমেবল) ২০৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। প্রতিযোগিতার শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ে অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল উরুগুয়ে।
যদিও সবাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে নন। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (উয়েফা) সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এই প্রস্তাবকে ‘বাজে ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা মনে করেন, আরো দল বাড়ানো হলে প্রতিযোগিতায় ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার (কনকাকাফ) সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি বিশ্বাস করেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর জন্য ‘ক্ষতিকর’ হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে বিড করতে পারে এবং টুর্নামেন্ট ৬৪ দলের হলেও তা সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব।’
এখন ফিফার অবস্থান হলো, সদস্যদের যেকোনো প্রস্তাব তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে এখনই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ফিফা কাউন্সিলের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন