প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে, যখন দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে প্রত্যাশা যেমন ছিল, তেমনি বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অপরদিকে অর্থনৈতক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির মতে, বর্তমান বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি এত দ্রুত কমিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
তাই, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের অর্জন শুধুমাত্র পরিসংখ্যানগত নয়, বরং জনজীবনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটের একটি ইতিবাচক দিক হলো মানব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগেরও প্রয়োজন। একই সঙ্গে, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়াটিও সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তবায়ন। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত ফল অর্জিত হয়নি।
প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। বিশেষ করে, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। এ ছাড়া, জ্বালানি নিরাপত্তা, রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না হলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায়, শুধুমাত্র লক্ষ্য নির্ধারণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। সুতরাং, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে অবস্থান করছে। বাজেটের সাফল্য তার আকারে নয়, বরং বাস্তবায়নের গুণগত মানে নিহিত। যদি ঘোষিত সংস্কার, বিনিয়োগ সহায়তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগগুলো বাস্তবে কার্যকর করা যায়, তাহলে এই বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন