প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মনে করেন, দেশের রফতানি আয় দেড়শ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। তবে এর জন্য তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য ৫ থেকে ৬টি খাতে নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে চামড়া ও পাটখাতের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়ার কথাও জানান।
এদিকে, গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিড জানায়, রফতানি বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের কথা চলতি বছরের নভেম্বরে থাকলেও, জাতিসংঘে করা আবেদনের ভিত্তিতে সরকার আশা করছে যে আরও তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় পাওয়া যেতে পারে। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক মনে করেন, এই অতিরিক্ত সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানো না গেলে এর সুফল মিলবে না।
র্যাপিডের গবেষণায় বলা হয়, বাজার হিস্যা বেশি থাকায় এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেলেও, বাংলাদেশ শুল্ক সুবিধা নাও পেতে পারে। অন্যদিকে, অন্যান্য বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষেত্রে ভারত, ইউরোপ ও চীনের বাজারে রফতানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
বর্তমানে কৃষি ও উৎপাদন খাত মিলিয়ে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি করে এমন পণ্যের সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৪। খসড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বিষয়ক এক সভায় র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ জানান, এসব খাতের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি রফতানি প্রণোদনার বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থা নিয়েও ভাবতে হবে।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, যদি তৈরি পোশাক খাতের বাইরে আরও ৫ থেকে ৬টি খাতে নীতিসহায়তা দেয়া যায়, তাহলে দেশের রফতানি আয় দেড়শ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। চামড়া ও পাটখাতের উন্নয়নে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিগত সরকারের সমালোচনা করেন, এবং বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করার ওপর জোর দেন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে পাটশিল্প উন্নয়নে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করছেন যে, চলতি বছরের নভেম্বরে না হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণ ঘটবেই। এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন