প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অনলাইন বিজ্ঞাপনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর গোপনে নজরদারি এবং তাদের ডিভাইসে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার ইনস্টল করার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে শীর্ষস্থানীয় দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কানাডার সাইবার ওয়্যারডগ গ্রুপ ‘সিটিজেন ল্যাব’ এবং নিউইয়র্কভিত্তিক অ্যাডভারটাইজিং সিকিউরিটি ফার্ম ‘কনফিয়্যান্ট’-এর পৃথক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি ডিজিটাল অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সি ‘ডিসকভার-টেক’ (Discover-Tech) অনলাইন বিজ্ঞাপনের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে এই তথ্য চুরির কার্যক্রম পরিচালনা করত। ফোন বা ইয়ারবাডের মতো সাধারণ পণ্যের বিজ্ঞাপনের আড়ালে এই ভুয়া নেটওয়ার্কটি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ওয়েবসাইট এবং ৭৫ হাজার অ্যাপে তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিয়েছিল। ব্যবহারকারীরা যখন ওই সমস্ত সাইট বা অ্যাপ ভিজিট করতেন, তখন ডিসকভার-টেক তাদের শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম হতো। এমনকি অনেক সময় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বর পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হতো।
গবেষকদের মতে, ডিসকভার-টেকের এই গুপ্তচরবৃত্তি সেবাটি ইজরায়েলের কুখ্যাত স্পাইওয়্যার কোম্পানি ‘ক্যানডিরু’ (Candiru)-সহ অন্যান্য নজরদারি সংস্থাকে গুগল, কোমাস্ট এবং রাশিয়ার ইয়ানডেক্স-এর মতো বৃহৎ বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার করে দিত। ক্যানডিরুর স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর ডিভাইসে আড়ি পাতা হতো। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে সরকারের সমালোচকদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগে ক্যানডিরুকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।
সিটিজেন ল্যাবের জ্যেষ্ঠ গবেষক ওলফি ক্রিস্টল এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “বর্তমান অনলাইন বিজ্ঞাপনের সামগ্রিক কাঠামোই রাষ্ট্র, বেসরকারি খাত এবং সাধারণ নাগরিক—সবার জন্য একটি চরম পদ্ধতিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি।”
তবে অভিযুক্ত ডিসকভার-টেক বা এর প্রধান নির্বাহী দেকেল বনির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন