প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরার তালায় পাখিমারা টিআরএম বিলের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ফসলের ক্ষতিপূরণের বকেয়া ৪৮ কোটি টাকা পরিশোধের দাবিতে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্দেশ্যে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে তালা উপজেলার পাখিমারা টিআরএম বালিয়া বটতলায় পাখিমারা টিআরএম বিল অধিবাসী ও বিল কমিটির উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিল কমিটির সভাপতি আব্দুল আলিম। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন বিল কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ সানা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন খেশরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস. এম. লিয়াকত হোসেন, তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, আছাদুর ইসলাম, আবু সাইদ লাভলু, মনোরঞ্জন দাস, ইউনুচ সরদার, রইজুল সানা, খোকন সানা, ছবেদ সরদারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বক্তারা জানান, কপোতাক্ষ নদ থেকে বালিয়া বেইলি ব্রিজ পর্যন্ত পেরিফেরিয়াল বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ার কারণে নদীর পানি অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবেশ করছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। তারা সতর্ক করেন, যদি দ্রুত বাঁধের সংস্কার করা না হয়, তাহলে জলাবদ্ধতা আরও বিপজ্জনক আকার ধারণ করবে এবং কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব করতে হবে।
তারা দাবি করেন, পাখিমারা বিলে টানা ছয় বছর টিআরএম কার্যক্রম পরিচালনা করা সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের মাত্র দুই বছরের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট চার বছরের ক্ষতিপূরণের অর্থ এখনও পরিশোধ করা হয়নি। অনুমোদিত বরাদ্দ অনুযায়ী সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা প্রায় ৪৮ কোটি টাকা। অবিলম্বে এ অর্থ পরিশোধ করার জন্য তারা দাবি জানান। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে বকেয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ, পেরিফেরিয়াল বাঁধের সংস্কার এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
জানা গেছে, কপোতাক্ষ অববাহিকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২০১১-১২ অর্থবছরে পাখিমারা বিলে টিআরএম কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এই সময় পেরিফেরিয়াল বাঁধ নির্মাণ এবং সংযোগ খাল খনন করা হয়েছিল। পরে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে দুই বছরের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর ১ হাজার ৫৬২ একর জমিতে জোয়ার-ভাটা চালু ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দুই বছরের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট চার বছরের প্রায় ৪৮ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন