প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ চলাকালীন ইউক্রেনের ড্রোনের কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণ অনিরাপদ’ হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন জেলেনস্কির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন অভিযান চার বছর পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা আরও জোরদার করেছে।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার আকাশপথ ব্যবহারকারী প্রতিটি বিমান সংস্থা, প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠান এবং যারা এখনো রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করছে— তাদের সবাইকে আমরা সতর্ক করতে চাই, রাশিয়ার আকাশপথ সম্পূর্ণ অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেন বেসামরিক বিমান চলাচলের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি দিচ্ছে না— একটিও বেসামরিক বিমানকে নয়। তবে রাশিয়ার আকাশে এমন বিপুলসংখ্যক ড্রোন থাকবে, যার বিষয়টি সবাইকে বিবেচনায় নিতে হবে।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোনের কারণে রাশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে বারবার বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে এসব ড্রোন হামলার সংখ্যা বেড়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘ড্রোনে ভরা আকাশ বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য নিরাপদ নয়। যুদ্ধ যতদিন চলবে, ততদিন রাশিয়ার আকাশ ড্রোনের দখলেই থাকবে।’
জেলেনস্কির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পুতিন জেলেনস্কির বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেছেন।
টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘তারা আমাদের আবার আলোচনায় বসতে বলছে... কিন্তু সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না।’
উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর হওয়ার মধ্যে রাশিয়ার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনে নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি চাই না। এ কারণেই আমরা আমাদের অংশীদারদের সতর্ক করছি— রাশিয়ার আকাশে নিরাপদ দিন শেষ হয়ে গেছে।’
‘হামলার গতি বাড়ছে’
রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত গোলাবারুদের ঘাটতি থাকায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে কিয়েভকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামো, বন্দর এবং এমনকি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গুদামেও হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
পুতিন তার ভাষণে স্বীকার করেন যে, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার ভেতরেও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আমাদের তেল শোধনাগারসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করেছে।’
এতে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, হয়েছে।
পুতিন আরও বলেন, এসব স্থাপনা সুরক্ষিত ছিল না, তাই ক্ষতি হয়েছে।
তবে পুতিন দাবি করেন যে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সবকিছুর পরও বিশেষ সামরিক অভিযানের এলাকায় রুশ বাহিনী তাদের আক্রমণের গতি বাড়িয়ে চলেছে।’
জেলেনস্কি তার রাতের ভাষণে বলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনার স্বার্থে তাদের অংশীদাররা অনুরোধ করলে ইউক্রেন রাশিয়ার আকাশ থেকে ড্রোন সরিয়ে নেবে।
তিনি বলেন, ‘কূটনীতির স্বার্থে, আলোচনার স্বার্থে... নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং নির্দিষ্ট এলাকায় আমরা এটি করতে প্রস্তুত।’
তবে ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বন্ধের প্রচেষ্টা অনেকটাই স্থবির হয়ে আছে।
তবু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের বিষয়ে পুতিন তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক সুরে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘মি. কুশনার ও মি. উইটকফ দুজনই এখানে সবসময় স্বাগত অতিথি। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আনন্দিত।’ তিনি তাদের ‘আন্তরিক’ বলেও উল্লেখ করেন।
ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতা উদ্যোগের অংশ হিসেবে উইটকফ ও কুশনার রাশিয়ার সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ তারা জানুয়ারিতে মস্কো সফর করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন