প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এপ্রিলের পরে এবার দ্বিতীয় ‘সুপার টাইফুন’-এর হুমকায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা। বাভি নামের এই সুপার টাইফুনটি শক্তিশালী বাতাস নিয়ে ৫ম ক্যাটাগরির হারিকেন হিসেবে দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র (জেটিডব্লিউটিসি)’র বরাতে উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সাইপান থেকে এএফপি জানিয়েছে, গুয়াম সময় শনিবার সকাল ৭টায় (শুক্রবার ২১০০ জিএমটি) বাভি দ্বীপপুঞ্জের কয়েকশ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল। সেই সময় তার সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২৫৯ কিলোমিটার (১৬১ মাইল) এবং দমকা বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৩১৪ কিলোমিটার (১৯৫ মাইল)।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, ‘বর্তমান পূর্বাভাস মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সব বাসিন্দার অন্তত ক্রান্তীয় ঝড়ের মতো আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।’
অর্থাৎ, এ অঞ্চলে প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা রয়েছে। গত কয়েক দিনে জ্বালানি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, হার্ডওয়্যার দোকানে প্লাইউড ও সুপারমার্কেটগুলোতে খাদ্য, বোতলজাত পানি ও জরুরি সামগ্রী কেনার ভিড় দেখা গেছে।
উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের কাগমান ভিলেজের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী জেফ গার্সিয়া এএফপিকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তাই তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এর আগেও সুপার টাইফুন মোকাবিলা করেছি।’
তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আমরা পানি, মোমবাতি, ব্যাটারি ও টিনজাত খাবারের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছি... একটি সমাজ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের ঐক্য, প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা।’
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা ঝড়ের প্রস্তুতির কারণে অনেকটাই স্থগিত হয়ে গেছে। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা উভয় অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
সাইপানের প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ক্লাব রিসোর্টের কর্মীরা শুক্রবার জানালেন, কাঠের তক্তা লাগানো, বাইরের আসবাব ও সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে রাখা, অ্যালার্ম ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুতের কাজ তারা করছেন।
রিসোর্টটির ক্রীড়া, বিনোদন ও কার্যক্রম ব্যবস্থাপক ৩৫ বছর বয়সী রেমার্ক কাস্ত্রো বলেছেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয় এবং ঝড় চলে যাওয়ার পর দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি।’
আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন হুমকি আসছে। উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার এবং পাশের পৃথক মার্কিন অঞ্চল গুয়ামে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই অঞ্চলটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র।
এপ্রিলের মাঝামাঝি আঘাত হানা সুপার টাইফুন **সিনলাকু** হাজার হাজার মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, অসংখ্য গাছ উপড়ে ফেলেছে, গাড়ি উল্টে দিয়েছে এবং বহু ভবনের টিনের ছাদ উড়িয়ে নিয়েছে।
এ সময় এমভি মারিয়ানা নামের একটি মালবাহী জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে সেটি উল্টে যায়। একজন নাবিকের মরদেহ উদ্ধার হলেও আরও পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন, যাঁদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমেরিকান রেড ক্রস জানাচ্ছে, অনেক মানুষ এখনও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা অস্থায়ী ছাউনি দেওয়া ঘরে বসবাস করছেন। এ অবস্থায়, বাভির আগমনের আগে সংস্থাটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও ত্রাণসামগ্রী মোতায়েন করেছে।
আস লিতো গ্রামের ৪২ বছর বয়সী এম মারিলা জানিয়েছেন, ‘আবারও বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়া সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে- এ চিন্তাই খুব কষ্টের।’
তিনি বলেন, ‘সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক সময় লাগে। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খরচ নিজের পকেট থেকে চালিয়ে যাওয়া সত্যিই ক্লান্তিকর।’
সান আন্তোনিও গ্রামের ৫০ বছর বয়সী হিসাবরক্ষক লেহরি গালভান বলেছেন, ‘বারবার প্রস্তুতি নেওয়া, পরিকল্পনা করা এবং ঘরের ছাদ মেরামত করতে করতে আমি ক্লান্ত।’
তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘এটি আবারও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দ্বীপে আরও বেশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।’
‘শিশুরাও মানসিক আঘাত নিয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু অল্প বয়সেই তারা জরুরি পরিস্থিতির জন্য কীভাবে প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখতে হয়, তা শিখে গেছে।’
উষ্ণ সমুদ্রের প্রভাব নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস বুধবার জানিয়েছে, বিশ্বের মহাসাগরগুলো চলতি বছরের জুন মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উষ্ণতা রেকর্ড করেছে। আগামী মাসগুলোতেও নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উষ্ণ সমুদ্র ক্রান্তীয় ঝড়কে আরও শক্তিশালী করে এবং বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা যোগ করে, যা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হতে পারে।
এদিকে, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) শুক্রবার জানিয়েছে, প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর দেখা দেওয়া এবং সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী এল নিনো ইতোমধ্যে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে শুরু হয়েছে এবং এটি শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।
এই প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়ার ফলে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন