প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে। তবুও, এখন থেকেই মণ্ডপগুলোতে উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে।
দেশের অন্যান্য স্থানের মতো যশোরের কেশবপুরেও দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উৎসবের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। গতবছর এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৯১টি মণ্ডপে, আর এবার হচ্ছে ১০১টি মণ্ডপে। পূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলছে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা এবং অন্যান্য আয়োজন।
এদিকে, দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পী, কারিগর এবং পূজা উৎযাপন কমিটির সদস্যরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করে দেখা যায়, অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের মাটির কাজ এবং লেপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন রং-তুলির সাহায্যে প্রতিমাগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে চলেছে।
এ বছর কেশবপুরে দুর্গাপূজার জন্য প্রস্তুত ১০১টি মণ্ডপের মধ্যে কেশবপুর পৌরসভায় আটটি, ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে একটি, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে ১৬টি, মজিদপুর ইউনিয়নে সাতটি, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নে চারটি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ছয়টি, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে সাতটি, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ৯টি, সুফলাকাটি ইউনিয়নে ১১টি, গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ১২টি, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১২টি এবং হাসানপুর ইউনিয়নে আটটি রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মণ্ডপ প্রস্তুত হয়েছে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নের মালোপাড়ার পূজামণ্ডপে এবার প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
দেবীর আগমনের মাহিন্দ্রক্ষণে অপেক্ষা করে দিন-রাত প্রতিমার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত শিল্পীরা।
কেশবপুর কালীবাড়ি মন্দিরে প্রতিমা গড়ার কাজ করছেন খুলনা জেলার কপিলমনির শিল্পী প্রহ্লাদ বিশ্বাস। তিনি জানান, এবছর যশোরের কেশবপুর, খুলনার কপিলমনি এবং সাতক্ষীরাসহ সাতটি স্থানে প্রতিমা গড়ার কাজ করছেন। তার সঙ্গে পাঁচজন সহযোগী রয়েছেন। ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ হয়ে রং-তুলির কাজ শুরু করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যে রং-তুলির কাজও সম্পন্ন হবে।
প্রহ্লাদ জানান, তার সঙ্গে থাকা ভাস্কর্য শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দেওয়ার পর যা থাকে, তাতে কোনোরকমে দিন পার হয় তার।
সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের মালোপাড়া মণ্ডপে এবার প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন হওয়ায় এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে বলে জানান মণ্ডপ কমিটির সভাপতি অসীম বিশ্বাস।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সাহা জানান, এ বছর কেশবপুরে ১০১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিমা গড়ার প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রং-তুলির কাজ শেষ হলে প্রতিমাগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। গতবছর এ উপজেলায় ৯১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কেশবপুর কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি পঙ্কজ দাস জানান, মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে এবছর তাদের খরচ হচ্ছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। পূজা শেষ করতে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা ব্যয় হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে সাড়ম্বরে পূজার অনুষ্ঠান শেষ করা যাবে।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি এসআরবি, আনসার এবং গ্রাম পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। সুষ্ঠুভাবে পূজা উৎযাপনের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা বলায় গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক মণ্ডপে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থাও থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন