প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন দাবি করেছেন, সরকার পাঁচ মাসে ‘বহুমাত্রিক অভূতপূর্ব সাফল্য’ অর্জন করেছে।
আজ শনিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই বিষয়টি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কবরী হলে সরকারের পাঁচ মাসপূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি জানান, ‘গত ৫ মাসে জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন, ইশতেহারের আলোকে সকল শ্রেণির ও পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা, স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনবদ্য সফলতা, জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং গণমানুষের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব- এই বহুমাত্রিক অর্জনের ৫টি দিক দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে, একটি মানবিক, বৈষম্যহীন, নিরাপদ, মেধাভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পথে সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সুগম করেছে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ পুনর্গঠনে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।’
‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় সাশ্রয়ী ও দুর্নীতিমুক্ত পর্যালোচনা নিশ্চিত করে সরকার সুশাসনের একটি দৃঢ় বার্তা দিয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসন, বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বিনির্মাণ চলছে।’
পাঁচ মাসের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ার জন্য সরকার জনগণের প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘পাঁচ মাসে আমরা প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে দৃশ্যমান সাফল্যের লক্ষ্য গ্রহণ করেছি। এই সফলতা গুলোকে মোটা দাগে পাঁচটি বৃহৎ অর্জনে ভাগ করা যায়। এগুলো হল: জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন, ইশতেহারের আলোকে সকল শ্রেণির ও পেশার মানুষের স্বার্থরক্ষা, স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সফলতা, জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং গণমানুষের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব।
এসব সাফল্য অন্তর্ভুক্ত:
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ১৯ দিনের মধ্যে এবং মেহেরপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার নজির স্থাপন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির পর মাত্র এক মাসে ১০টি রায় ঘোষণা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর হোসেনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি সেনা হেফাজতে রয়েছেন। এটি গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভূতপূর্ব সাফল্য।
বহুল আলোচিত তনু হত্যা মামলার আসামি এবং শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিকে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গ্রেফতার ও দেশে প্রত্যর্পনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেজকেও ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাইতে গ্রেফতার ও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা চলছে।
জুলাই-অগাস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান সম্বলিত জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস করা হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
আদালতে দণ্ডিত আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।
সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রিপেইড মিটারে ধার্যকৃত মাসিক চার্জ তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা জোরদার ও উপজেলার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রত্যেক ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ইউনিট স্থাপন করা হবে, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরী বিভাগের সুবিধা, ইনডোর ও আউটডোর সেবা এবং আধুনিক প্যাথোলজি সুবিধা থাকবে।
প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাথমিক হেলথকেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠা ও ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা হেলথ স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
সংসদীয় কার্যক্রমের প্রথম ২৫ কার্যদিবসে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংশ্লিষ্ট ৯৪টি বিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাস করা হয়েছে। অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল সামাজিক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকাকে দূষণমুক্ত করার জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫০টি আধুনিক পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকীকরণ করতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে স্বয়ংক্রিয় কার্গো রিলিজ ব্যবস্থা শুরু হচ্ছে এবং ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মহানগরের বাইরে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ফলে মূল্যস্ফীতি এখন ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বৈদেশিক রেমিটেন্সের পরিমাণ বাড়ছে এবং যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক। প্রবাসীদের গভীর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে গত মার্চ মাসে রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে শুরু হয়ে ছিল। সেটি মাথায় রেখে সরকার প্রবাসী কার্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়াবিষয়ক সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের সাথে ২০২৬-২৭ সালকে নজরুল বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা প্রবর্তন করা হয়েছে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্টার্ট-আপ ও আইডিয়া কম্পিটিশন সম্পন্ন হবে এবং শিক্ষার্থীদের সকল স্তরের বৃত্তির সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি আরও জানান, ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের সুরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন, সেনা ক্যাম্পে গিয়ে তিনি সাধারণ খাবার গ্রহণ করেন এবং বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধির কাজ করছেন।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘জাঁকজমকপূর্ণ জীবন থেকে বর্জন করে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শ, জনকল্যাণমুখী ও সংবেদনশীল দৃষ্টান্ত স্থাপন দেশের মানুষের মধ্যে গভীর আস্থা তৈরি করেছে। তার প্রতিটি পদক্ষেপ, তা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা প্রটোকলহীন জীবনযাপন, প্রমাণ করে তিনি সকল শ্রেণির, পেশার, ধর্ম, গোষ্ঠী, জাতির প্রতিনিধি। তিনি জনতার প্রধানমন্ত্রী।’
তিনি বলেন, ‘মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতার এই ধারা অব্যাহত রেখে একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর অনন্য রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব আমাদের ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
১৫০ দিনের সরকার গণতান্ত্রিক দেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে এই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করে মাত্র ৫ মাসে এ বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যখন সরকারের পেছনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থা থাকে। তারেক রহমান সবসময় বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো উচিত।’
তিনি যোগ করেন, ‘বিগত ১৫০ দিনে সরকার কেবল সমস্যার সমাধানই করেনি, বরং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও এই উদ্যম, দেশপ্রেম এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’ এজন্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
সংবাদ সম্মেলনটি প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, সহকারি প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক এবং আশরোফা ইমদাদ, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন