প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা প্রয়োগে নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে ইরান ও ইউক্রেনের মতো দেশগুলোর প্রতি নেওয়া বৈদেশিক নীতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।
আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে এই নির্বাচনের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না কোন যুদ্ধে যুক্ত হবে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কোন দেশকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেবে। যদিও প্রেসিডেন্টের হাতে অনেক ক্ষমতা রয়েছে, কংগ্রেসের ভূমিকা এসব ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কংগ্রেসের দুটি কক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট। এই দুই কক্ষ আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় নির্ধারণ এবং প্রেসিডেন্ট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় এসব ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।
কংগ্রেসের পাস করা কোনো আইনে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি সেই ভেটো সমর্থন করেন, তাহলে তা বাতিল করা সম্ভব। এ ছাড়া কংগ্রেসের কাছে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্য, মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ফেডারেল বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিলেন। এর ফলে তার সরকার পরিচালনা সহজ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ করতে হতে পারে। বিশেষত সামরিক ও আর্থিক সহায়তা, যুদ্ধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনের প্রতি আগের তুলনায় কম সমর্থন দেখাচ্ছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন। সে সময় ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ায় এবং দেশটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সহায়তা প্রদান করে। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
২০২৫ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হোয়াইট হাউস সফরে গিয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে শীতল আচরণ পান। ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে বলেছেন, "জেলেনস্কির চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো।"
এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে এবং ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা কমানো হয়েছে। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ফলে ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনের জন্য আরো সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব তুলতে সক্ষম হবেন।
ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমবার্গ গভর্নমেন্টের সম্পাদক ও সাবেক সাংবাদিক ব্র্যান্ডন কনরাডিস মন্তব্য করেন, "ইউক্রেনকে পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন।" তারা ইউক্রেনের জন্য আরো সহায়তা নিশ্চিত করতে নতুন আইনও প্রণয়ন করতে পারেন।
তবে ট্রাম্প যদি সেই আইনে ভেটো দেন, তাহলে তা বাতিল করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। কিছু রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন পেলে ডেমোক্র্যাটরা এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হতে পারেন। ফলে ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে দুই দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে।
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন। কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তারা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে একটি প্রস্তাবও পাস করেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের বৈদেশিক নীতিবিষয়ক গবেষণা পরিচালক মাইকেল ও'হ্যানলন বলেন, "এই যুদ্ধে কংগ্রেসের খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।" তবে কংগ্রেস চাইলে যুদ্ধের জন্য অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে পরিস্থিতি আরো বড় আকার ধারণ করা ঠেকাতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন উন্নয়ন সহায়তাকে যেভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ইবোলা, এইডস ও ক্ষুধা মোকাবেলায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে মার্কিন সহায়তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেন। এ ছাড়া বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন সংস্থা ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেন তিনি।
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে সংস্থাটিকে আবার চালু করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে তারা উন্নয়ন সহায়তার বাজেট বাড়ানোর জন্য চাপ দিতে এবং ইউএসএআইডি বন্ধের সিদ্ধান্তের তদন্ত করতে পারবেন।
কনরাডিস বলেন, "কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির ক্ষমতা ব্যবহার করে ইউএসএআইডি বন্ধের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।"
এ নিয়ে শুনানি হবে এবং যেসব কর্মকর্তাকে দায়ী মনে করা হবে, তাদের কংগ্রেসে জবাবদিহির জন্য তলব করা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকবেন একজন রিপাবলিকান। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সবকিছু বদলে যাবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন