প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
"বেশি বেশি সবজি খাও, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হও, কৃষি ও কৃষকের পাশে দাঁড়াও" এই মূল প্রতিপাদ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরে দ্বিতীয়বারের মতো দেশজ সবজি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলে এই ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ডালায় সাজিয়ে আনা সবজির নাম এবং তাদের বিভিন্ন গুণাগুণ তুলে ধরে। এ ছাড়া, একজন শিক্ষার্থী চেনা-জানা সবজি সম্পর্কে অপর শিক্ষার্থীকে অবহিত করে।
শিশুদের দেশীয় সবজির প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকারক চটকদার খাবার থেকে তাদের নিরুৎসাহিত করতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। উৎসবে প্রায় ৩০টির অধিক দেশীয় সবজি নিয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে বরবটি, শিম, মটরশুটি, ফুলকপি, ব্রকোলি, কুমড়া, কুমড়া ফুল, কাঁচা কলা, কলা গাছের আইলকা, বিভিন্ন প্রজাতির শাক, ধনেপাতা, লেটুসপাতা, বাঁধাকপি, সজিনা পাতা, লাউ, থানকুনিপাতা, গাজর, মূলা, শালগম, বিট, গোল আলু, মেটে আলু, পেঁপে, টমেটো, বেগুন, চাল কুমড়া, করলা, কাকরোল, ঢেঁড়শ, পটল, শশা ইত্যাদি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহজাবিন, তাসরিক আরাফ, মিন্ময়সহ অন্যান্যরা জানান, এই আয়োজনের ফলে তারা অনেক সবজির সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। তারা সবজির গুণাগুণ সম্পর্কে নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করেছে এবং অপরকে জানাতে সক্ষম হয়েছে। অভিভাবকরা জানান, শিশুরা একসঙ্গে এত সবজি কখনও দেখার সুযোগ পায়নি। এই উৎসবের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন রকমের সবজি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। এতে শিশুরা সবজি খাওয়ার প্রতি আকৃষ্ট হবে বলেও অভিভাবকরা মনে করেন।
চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলের উপাধ্যক্ষ মৃদুল কান্তি দাস, সহকারী শিক্ষক নাজনীন হোসাইন, নুসরাত জাহান বলেন, বাংলাদেশে আর কোথাও এভাবে সবজি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে তাদের জানা নেই। তবে চাঁদপুরে তারা প্রথমবারের মতো সবজি উৎসবের আয়োজন করেছেন। একসঙ্গে এত সবজি দেখে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছে। এই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের দেশীয় সবজি চিনতে এবং জানতে পেরেছে।
চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি দাস বলেন, প্রতিটি মানুষের সুস্থ থাকতে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি আবশ্যক। বর্তমান সময়ে শিশুরা পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে চটকদার খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। অথচ দেশীয় ফল-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। এসব শাকসবজি বা ফল আমাদের হাতের নাগালে পাওয়া যায়, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই বারো মাস পাওয়া যায়। এসব দেশীয় সবজি আমাদের প্রতিদিনের পুষ্টির এক অনন্য উৎস হতে পারে। মূলত এসব কারণেই শিক্ষার্থীদের সবজির প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকারক খাদ্য থেকে নিরুৎসাহিত করতে এ আয়োজন করা হয়েছে।
সবজি উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। সবশেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আনা সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের খাওয়ানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন