প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, বিহারের বেগূসরাইয়ের 'হর হর মহাদেব চত্বরে' ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ফাস্টফুড চেইন 'কেএফসি'-র একটি নতুন আউটলেট উদ্বোধন করেন গিরিরাজ সিং, যিনি হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি ফিতা কেটে নতুন এই আউটলেটের সূচনা করেন।
তবে এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে, কারণ এর আগে হালাল মাংসের বিরুদ্ধে গিরিরাজ সিং বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এক বক্তব্যে তিনি হিন্দুদের হালাল মাংস বর্জন করে কেবল ‘ঝটকা’ মাংস খাওয়ার আহ্বান জানান, যা এক কোপে পশুর শিরচ্ছেদ করার পদ্ধতি।
বেগূসরাইয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মুসলিমদের হালাল মাংস খাওয়ার বিষয়টি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে প্রশংসনীয়, এবং হিন্দুদেরও তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য মেনে চলা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, "হিন্দুদের পশুবলির ঐতিহ্যগত পদ্ধতি হলো ঝটকা। হিন্দুরা যখনই 'বলি' বা পশু উৎসর্গ করে, তা এক কোপেই সম্পন্ন করে। সুতরাং, হালাল মাংস খেয়ে ধর্মভ্রষ্ট হওয়া উচিত নয়। হিন্দুদের সবসময় ঝটকা মাংসেই অটল থাকা উচিত।"
এছাড়া, তিনি এমন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দাবি করেন, যেখানে শুধুমাত্র 'ঝটকা' পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত মাংস বিক্রি করা হবে। কেএফসি আউটলেট উদ্বোধনে গিরিরাজ সিংয়ের উপস্থিতি নিয়ে নেটিজেনরা তাঁর পুরোনো হালাল-বিরোধী বক্তব্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে প্রবীণ সাংবাদিক অজিত অঞ্জুম খোঁচা মেরে মন্তব্য করেন, "হে সনাতনীরা, দেখে যাও, তোমাদের গিরিরাজ সিং এখন মুরগির দোকানের উদ্বোধন করছেন!" তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ফাস্টফুড চেইন কেএফসির একটি নতুন শাখা খোলার সাধারণ অনুষ্ঠান হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে।
বিহারের মাংস বিক্রি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়েও গিরিরাজ সিং সক্রিয় ছিলেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেগূসরাইয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি খোলা জায়গায় মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। এই পদক্ষেপের জন্য তিনি বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহার প্রশংসা করেন এবং জেলা প্রশাসকদের এটি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের সুরক্ষার স্বার্থেই খোলা জায়গায় প্রকাশ্যে মাংস বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন