প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল এবং লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। শুক্রবার একটি বিবৃতির মাধ্যমে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত বিবৃতির অল্প সময় আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ লেবাননে পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপগুলির মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সমাধানের চলমান সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছেন। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা দেশটির পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সহিংসতা অবসানের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।”
দুই নেতা ২৩ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য আলোচনার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “বৈঠকগুলোতে দুটি সার্বভৌম সরকার স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করবে।”
গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রথম দফার সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩ সালের পর এটি ছিল প্রথম দুই দেশের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি বৈঠক।
সেই বৈঠক এবং জুনে অনুষ্ঠিত পরবর্তী দফার আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন দুজনই সংঘর্ষে বিরতির ঘোষণা দেয়। তবে এসব আলোচনায় হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা অর্থবহ কোনো অগ্রগতি সাধনের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা চলছেই। সর্বশেষ, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সংঘটিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে লেবাননের সরকার যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি রোডম্যাপের আওতায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
লেবাননের সরকার দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহারের দাবি জানাতে শুরু করেছে। তবে জুন মাসের চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হলেও সেখানে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে চলমান সংঘর্ষ এই সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে বারংবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরল ভাবে ইসরায়েলকে সমালোচনার আওতায় আনেন।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন যে, “ইসরায়েল স্থায়ী যুদ্ধের পরিবেশ বজায় রাখতে চায়।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন