প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিজয় দিবস হলের ডাইনিংয়ে শিক্ষার্থীদের রুপচাঁদা মাছের নামে অতিরিক্ত মূল্যে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার সাথে সাথেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে খাবারের সময় রুপচাঁদা মাছের নামে পিরানহা মাছ অতিরিক্ত মূল্যে পরিবেশন করা হয়। খাবার খাওয়ার সময় মাছের ধারাল দাঁত দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী সন্দেহে ডাইনিং কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চান। প্রথমে দাবি করা হয় যে মাছটি রুপচাঁদা, কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখে ডাইনিং পরিচালক মনির ইসলাম পরবর্তীতে সেটিকে পিরানহা মাছ বলে স্বীকার করেন।
বিজয় দিবস হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম পারভেজ বলেন, আমাদের হলের ডাইনিংয়ে নিয়মিত পিরানহা মাছ পরিবেশন করা হচ্ছে এবং বিষয়টি একাধিকবার ডাইনিং কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আবেদন জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ডাইনিং পরিচালক মনির ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি এই ধরনের মাছ খেতে না চান, তাহলে ভবিষ্যতে ডাইনিংয়ে আর এ ধরনের মাছ রান্না করা হবে না।
এ বিষয়ে বিজয় দিবস হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি আগে বিষয়টি জানতাম না। হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ মাছ ডাইনিংয়ে পরিবেশনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে একই ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ উঠেছিল। এক বার পুঁইশাক খোসাসহ রান্না করে পরিবেশন করার ঘটনায়ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশে পিরানহা মাছের চাষ, উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, প্রদর্শন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী পিরানহা মাছের বিস্তার ও বেচাকেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন