প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের আদেশের বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের দায়ের করা একটি পুনর্বিবেচনা আবেদন সুপ্রিম কোর্ট ফেরত পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস নথিপত্র বা ‘পেপার বুক’ অসম্পূর্ণ থাকার কারণে আবেদনটি ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার, ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটোরি (আইসিটি)-র অ্যাডভোকেট জেনারেল নাভিদ হায়াত মালিকের মাধ্যমে চিফ কমিশনারের পক্ষে দায়ের করা পুনর্বিবেচনার আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্ট যদি আইনের এই বিধানটি আমলে নিতেন, তবে পর্যালোচনাধীন আদেশটি দেওয়া সম্ভব হতো না।
আবেদনে বলা হয়েছে, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া, তাও আবার এমন একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যাতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন কোনো শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়নি। যা সমগ্র ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমান আচরণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সংবিধান বৈষম্য ও পক্ষপাতিত্বকে ঘৃণা করে। এতে আরও বলা হয়, একই পরিস্থিতিতে থাকা অন্য সাজাপ্রাপ্তরাও তখন জেলবিধি লঙ্ঘন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া বিশেষ চিকিৎসার অনুরূপ সুবিধা দাবি করবে।
আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ১৮ আগস্টের আদেশটি ছিল বৈষম্যমূলক; কারণ একই পরিস্থিতিতে থাকা অন্য বন্দিদের নিজেদের পছন্দমতো বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার একই সুযোগ দেওয়া হয়নি। বুধবার, সরকারের মন্ত্রীরাও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চান, সব বন্দিকেই কি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না।
ফেডারেল রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, পিএমএল-এন কখনোই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়কে রাজনীতিকরণ করেনি। অথচ পিটিআই নেতাদের পিএমএল-এন নেতাদের স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে।
তারা জোর দিয়ে বলেন, ইমরানকে অতীতে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং জেলবিধি ও আইনি বিধান অনুযায়ী তিনি ভবিষ্যতেও চিকিৎসা পেতে থাকবেন। মন্ত্রী বলেন, তার চিকিৎসার বিষয়ে কোন অস্পষ্টতা নেই। জেল ম্যানুয়াল এবং প্রযোজ্য সব নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি গুরুত্বারোপ করেন, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।
একই সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে থাকা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী অভিযোগ করেন, অন্য সব কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর ইমরান এখন ‘সহানুভূতির কার্ড’ খেলার আশ্রয় নিচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা স্বাস্থ্যকে রাজনৈতিক এজেন্ডা বানিয়েছেন, তারা কেন কর্মদক্ষতাকে এজেন্ডা হিসেবে বেছে নেননি।
এর জবাবে, পিটিআই ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে মন্ত্রীদের সংবাদ সম্মেলনের সমালোচনা করে এবং তাদের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন, সংবেদনশীলতাহীন ও লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন। পিটিআই-এর কেন্দ্রীয় গণমাধ্যম বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইমরান খানের স্বাস্থ্যকে রাজনৈতিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার বিষয়ে পরিণত করা সরকারের সংবেদনশীলতার অভাব ও গুরুত্বহীন মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সরকারের ইচ্ছাধীন নয় এ কথা উল্লেখ করে দলটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক বিবৃতির মাধ্যমে সিদ্ধান্তটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা না করে বরং আদালতের নির্দেশকে মেনে চলুক।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ডন পত্রিকাকে জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ আবেদনটি নতুন করে দাখিল করা হতে পারে এবং একই সঙ্গে রেজিস্ট্রারের আপত্তির বিরুদ্ধেও একটি আপিল করা হতে পারে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পিটিআই-এর মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা বলেন, আদালতের আপত্তির পর রাষ্ট্রপক্ষ তাদের পুনর্বিবেচনা আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
তিনি বলেন, ১৮ আগস্টের সুপ্রিম কোর্টের আদেশ না মানার কোনো অজুহাতই গ্রহণযোগ্য নয়। ইমরান খান সাহেবকে অবিলম্বে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। আজই সেই দিন। এর আগে মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল যেন ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়াও একটি মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি (বহু-বিভাগীয়) মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা করা সম্ভব হয়।
বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এই নির্দেশ জারি করেন। পিটিআই প্রধানকে হাসপাতালে ভর্তি, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এবং তার চিকিৎসার নথিপত্র পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেয়।
আদালত তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বোনকে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুমতি দেয় এবং নিয়মিতভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। তবে বুধবার, সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে ওই আদেশ পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। সরকারের যুক্তি ছিল নির্দেশনাটি বৈষম্যমূলক এবং তা কারাগারের বিধিমালা ও স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী।
সংবিধানের ১৮৮ অনুচ্ছেদের অধীনে ইসলামাবাদ চিফ কমিশনারের মাধ্যমে দায়ের করা ওই পুনর্বিবেচনা আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়, পাকিস্তান প্রিজন রুলস, ১৯৭৮-এর ১৯৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী কোনো বন্দীকে হাসপাতালে স্থানান্তরের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে তা সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল। অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের ওই বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার সময় এই বিধিটি বিবেচনায় থাকা প্রয়োজন ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন