প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) লাইব্রেরিতে শব্দ করে পড়াকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ফলস্বরূপ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, লাইব্রেরিতে শব্দ করে পড়ার কারণে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবিরের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে লাইব্রেরি থেকে নিচে নামার পর বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে প্রক্টর কার্যালয়ে বিষয়টির সমাধান করা হয়।
এরপর দুপুর ২টার দিকে আইসিটি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দিকে যাওয়ার সময় সেখানে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আবারও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে দত্ত হলের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে প্রকৌশল অনুষদের দিকে সরিয়ে দেন।
কিছুক্ষণ পর, আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে হলের ভেতরে প্রবেশ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সংঘর্ষে দত্ত হল ও আইসিটি বিভাগের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে দত্ত হলের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে, যা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ করে রাখে। প্রক্টরের আশ্বাস পাওয়ার পর তারা অবরোধ তুলে নেন।
আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ সরকার বলেন, ‘প্রক্টর কার্যালয়ে দুপুরের ঘটনার সমাধান হয়ে গিয়েছিল। এরপর আমরা কয়েকজন ক্লাস শেষে মেসে যাচ্ছিলাম। তখন কয়েকজন আমাদের ডেকে নিয়ে মারধর শুরু করে। পরে আমাদের শিক্ষার্থীরা বের হলে তারা আমাদের উসকানি দিয়ে হল পর্যন্ত নিয়ে যায়। এরপর সেখানে মারামারি হয়।’
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য বলেন, ‘আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের ধাওয়া দিয়ে হলের ভেতরে এসে মারধর করেছে। আমাদের ৬-৭ জন আহত হয়েছে। পরে তারা হলের ডাইনিং বয় ও পাহারাদারকেও মারধর করেছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টি দেখেছি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করা হবে। আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা হলে গিয়ে মারধর করেছে—এ বিষয়টি তদন্ত করে আগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর পুরো ঘটনার বিষয়ে বিচার করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন