প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে যখন বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে, তখন দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ওই ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর গুঞ্জন থামার বদলে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, তা হল ভিডিওটি আসলে কবে ধারণ করা হয়েছিল।
শনিবার (৮ আগস্ট) মেহের নিউজ প্রকাশিত ওই ভিডিওতে কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের কি না, তা স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে তথ্য যাচাইকারী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ দাবি করেছে, এটি নতুন কোনো ভিডিও নয়, বরং যুদ্ধের আগের একটি পুরোনো ফুটেজ।
ইউনাইটেড এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান, ইউএএনআইয়ের নীতি বিষয়ক পরিচালক জেসন ব্রডস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন যে, ভিডিওটি ইরানের কোমে মোজতবা খামেনির দেওয়া পুরোনো একটি বক্তৃতার ফুটেজ। তাঁর দাবি, মার্চ মাসেও একই ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছিল।
তাহলে মেহের নিউজের প্রকাশ করা ভিডিওটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন হলো, এটি কি মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থার একটি প্রমাণ, নাকি পুরোনো একটি ভিডিও দিয়ে তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে বিভিন্ন ধরনের খবর এসেছে। এমনকি দ্য জেরুজালেম পোস্টের একটি প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুর গুঞ্জনও উঠে এসেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য সামনে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে মেহের নিউজের ভিডিও প্রকাশকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হলেও ভিডিওটির ধারণের সময় কিভাবে নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই, যা বিতর্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।
হামলার পর থেকেই আড়ালে মোজতবা খামেনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সময় দাবি করা হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি। গণমাধ্যমের সামনে সরাসরি উপস্থিতির পরিবর্তে লিখিত বার্তা ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা এখন অত্যন্ত কঠিন। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও সর্বোচ্চ নেতার উপস্থিতি নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে মেহের নিউজের প্রকাশিত ভিডিওটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ ভিডিওটি যদি সাম্প্রতিক সময়ের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি মোজতবা খামেনির বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। এবং যদি এটি পুরোনো ফুটেজ হয়, তাহলে কেন এই মুহূর্তে সেটি প্রকাশ করা হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত ভিডিওটির ধারণের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে মেহের নিউজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিতর্কের অবসান ঘটেনি, নতুন নাকি পুরোনো এ বিষয়ে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অফ ইন্ডিয়া
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন