প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমজ দুই ভাইয়ের বিয়ে যমজ দুই বোনের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়ার শফিকুল ইসলামের দুই যমজ মেয়ে সুমাইয়া আক্তার পাতা ও সোনিয়া আক্তার লতার বিয়ে লক্ষিপুর সদর উপজেলার নুরুল আলমের যমজ দুই ছেলের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। দুই ছেলে হল আব্দুর রাজ্জাক আশেক ও আব্দুল জব্বার মাসুম।
রাজ্জাক এবং জব্বার দুজনেই দুবাই প্রবাসী, আর কনে পাতা ও লতা বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে একই ধরনের শেরওয়ানি পরে কনের বাড়িতে হাজির হন দুই ভাই। তাদের মতো দুই বোনও একই রকমের শাড়ি পরেছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় অনাড়ম্বর পরিবেশে তাদের গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়। যমজ ভাই ও বোনের বিয়ের খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যমজ নবদম্পতিদের এক নজর দেখতে বিয়ে বাড়িতে অনেক এলাকায় লোকজন ভিড় করেন।
ভাইয়েরা দেখতে একে অপরের মতো, দুই বোনও তেমনই। তাদের বিয়েতে পরা শেরওয়ানি এবং শাড়িতে সবাই খুব মুগ্ধ হয়। অতিথিদের কাছে বোঝা দায় ছিল কে কোন ভাইয়ের বউ। বিয়ে দেখতে আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে দিনে স্থানীয় বাসিন্দারাও একত্রে ভিড় করেন।
স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের বিয়ে সাধারণত দেখা যায় না। তাই বিয়ে দেখতে অনেক লোক এসেছেন। কেউ দাওয়াত পেয়ে আবার কেউ দাওয়াত না পেয়েও এক নজর নবদম্পতিদের দেখতে এসেছেন। তবে বিষয়টি তাদের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এই দুই নবদম্পতি যাতে সুখী হন, এজন্য তারা দোয়া চেয়েছেন।
যমজ দুই ভাই আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা লেখাপড়ার পর প্রবাসে থাকি। ছোটবেলা থেকেই আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। তাই আমরা দুজনেই সিদ্ধান্ত নিই যে, আমরা যমজ দুই বোনকে বিয়ে করব। সেই উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক গ্রুপে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে দুজন যমজ বোনের সন্ধানে যাই। আলহামদুলিল্লাহ, তারা আমাদের বিয়েতে সম্মতি দিয়েছে। আমরা দুই যমজ ভাই, দুই যমজ বোনের সঙ্গে বিয়ে করতে পেরে খুবই আনন্দিত। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করুন, যেন আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখময় হয়।
যমজ দুই বোন লতা ও পাতা জানান, এই বিয়ের মাধ্যমে তারা একসঙ্গে থাকার সুযোগ পাবেন। এজন্য তারা খুব খুশি। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
যমজ দুই মেয়ের চাচা রফিকুল ইসলাম মনি বলেন, যমজ দুই ভাতিজির জন্য যমজ দুই ছেলের সন্ধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকার এক শিক্ষকের মাধ্যমে পেয়েছি। ভাতিজি দুজনই এইচএসসি পরীক্ষা দেবে এবং ছেলেরাও লেখাপড়া শেষ করে প্রবাসে চাকরি করছেন। আল্লাহ তাআলা তাদের জুটি মিলিয়ে দিয়েছে।
যমজ দুই ছেলের বাবা মো. নুরুল আলম জানান, যমজ দুই ছেলের জন্য যমজ দুই মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে পেয়ে তিনি অনেক আনন্দিত। নবদম্পতিদের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন