প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে একটি বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর পর হামলাকারী ভেতরে প্রবেশ করেন।
পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলাকারী নিজের ছোড়া গুলিতেই মারা গেছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় জনসাধারণের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে গুলির শব্দ শুনে পুলিশকে একটি বাড়িতে ডাকা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে বন্দুকধারীকে বাড়ির বাইরে দেখা যায়।
পরে তিনি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাড়ির বাইরের রাস্তায় দুই নারীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। গুলিতে তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর পুলিশ ও বিশেষায়িত বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে আরও সাতজনের মরদেহ পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
ইরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ এ হত্যাকাণ্ডকে তার দেখা সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে উদ্বেগজনক।" পুলিশপ্রধান নিশ্চিত করেছেন যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি আরও বলেন, "তাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।"
নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রিক লোরাহ বলেন, "এই ঘটনায় যে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, তা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ নেই।"
শনিবারেও হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছিল। তবে হামলার কারণ বা হামলার আগে বাড়িটিতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরি শহর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, ইরির এ হত্যাকাণ্ড চলতি বছরে দেশটিতে অন্তত ১৯তম গণহত্যার ঘটনা। সংস্থাটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ঘটনায় চার বা তার বেশি মানুষ নিহত হলে সেটিকে গণহত্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।
এ ধরনের অনেক ঘটনায় হামলাকারী নিজের পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যা করেন। এসব ঘটনাকে পারিবারিক হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করা হয়। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০টির বেশি নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চার বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—তারা মারা গেছেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ফেডারেল আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো হয়। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন