প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়া হিসেবে, ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দাবি করেছে ইরানের সরকারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি অ্যাকাউন্ট।
মঙ্গলবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ওই মানচিত্রে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটিকে একটি নীল বৃত্ত দ্বারা চিহ্নিত করে, তার নিচে লেখা ছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এলাকা’। ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে পরিণত করার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
এরপর হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে ট্রাম্পের ওই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পুনঃপ্রকাশ করা হয়। ট্রাম্পের পোস্টের ওপর সমালোচনা করেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। এক্সে একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের ‘ভ্রান্ত ধারণা’ অচিরেই সংশোধন হবে অথবা ইরানই সেটি সংশোধন করবে।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবির প্রতিক্রিয়া জানাতে ইরানের সরকারি ‘ইরান ইন হায়দ্রাবাদ’ অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে লিখা হয়, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের নতুন ভূখণ্ড।’ অর্থাৎ, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’।
ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ ক্যালিফোর্নিয়ায়, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় বসবাস করে। ইউসিএলএ’র সেন্টার ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজের ইরানিয়ান ডায়াসপোরা ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে আনুমানিক ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি-আমেরিকান অধিবাসী রয়েছেন।
১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি অভিবাসীদের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা ইরানি প্রবাসীদের জন্য একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। এই অঞ্চলটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘তেহরাঞ্জেলেস’ নামেও পরিচিত।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান সেসময় প্রকাশিত হলো যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘাতের পর যুদ্ধের অবসান ও একটি বৃহত্তর সমঝোতার পথ তৈরি করতে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। তবে এই সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা থেমে যায়।
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌযান চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তথ্যসূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন